স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার৷ আর এদিনই এগরাতে এক দলীয় কর্মীসভায় যোগ দিতে এসে নির্বাচনে সন্ত্রাস নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ তিনি স্পষ্ট জানালেন, ‘আমরা বারবার ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচনের দাবি নিয়ে দরবার করেছি । অথচ বারবার বিরোধীরা সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চোপড়াতে গোলমাল হতে পারে সে কথা বলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে কমিশনকে বলেছিলাম। গত দেড়- দু’বছরে এখানে ৫ থেকে ৭জন খুন হয়েছে। যার মধ্যে বিজেপির ৩ জন রয়েছে। বাকিরা কংগ্রেসের । আর সে কারণে আজকের গোলমাল অস্বাভাবিক কিছু নয় । কিন্তু গোলমালের পর চার ঘন্টা বাদে পুনরায় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই সব মানুষরা এবার পরিবর্তন আনবেন।’
একদিকে সন্ত্রাস অন্যদিকে পরিবর্তন, একদিকে ক্ষোভ, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাস, এমনই দ্বৈত ছবিতে বৃহস্পতিবার ধরা পড়লেন দিলীপ ঘোষ৷ বৃহস্পতিবার এগরাতে কর্মীসভার পাশাপাশি পদযাত্রাও হয়৷ এগরা সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে বিজেপির মহামিছিল সারা শহর পরিক্রমা করে।

এর আগ বিজেপির শীর্ষ নেতা সায়ন্তন বসু জানিয়েছিলেন, রাজ্যে প্রথম দফার ভোটে আমরা দেখেছিলাম কোচবিহারের পরিস্থিতি। কিভাবে সকাল থেকেই শাসক দল উঠে পড়ে লেগেছিল ভোট লুঠ করতে। দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণের প্রথম ঘন্টা থেকেই তৃণমূলের দুস্কৃতিরা মানুষকে ভোট দিতে আটকাতে। অনেক জায়গাতে রাজ্য পুলিশ নীরব দর্শক। মানুষ রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা হারিয়েছেন। রাজ্যের ১০০ শতাংশ বুথে এবং ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকাতে কেন্দ্রীয়বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে এটা নির্বাচন কমিশনকে বুঝতে হবে।

শেষ পাঁচবছরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন৷ তাহলে সেই উন্নয়নের উপরের ভরসা না রেখে শাসক দলের ভোট সন্ত্রাসের কী দরকার পড়ল এই প্রশ্নের উত্তরে এদিন রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্ত বসু বলেন, ‘‘রাজ্যে কেবল কালিঘাটের একটি পরিবারের উন্নয়ন হয়েছে৷ সোনা পাচার বেড়েছে৷ আর ওঁর বলা উন্নয়ন মানে তো অনুব্রত মডেল৷ পঞ্চায়েতের মতোই এবারও ভোটে সন্ত্রাস করতে চাইছে ওরা৷ কিন্তু এবার মানুষ সচেতন আর ওরা এসব করতে পারবে না৷ ভোট লুঠ করেও তৃণমূল হারবে৷’’