স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: জার্সি বদলেছে৷ কিন্তু ভোটের ‘ধরন’ কি বদলেছে? নোয়াপাড়ার মাটিতে কান পাতলে চাপাস্বরে উত্তর আসছে ‘না’৷

আরও পড়ুন: নোয়াপাড়ায় ভোটদানে বাধা দেওয়ায় অভিযুক্ত শাসক তৃণমূল

৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আর প্রচুর রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিতে সোমবার উপ-নির্বাচন হচ্ছে নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে৷ ভোটের হাল হকিকতের খোঁজ নিতে kolkata24x7 এর তরফে আমাদের প্রতিনিধিরা হাজির হয়েছিলেন একাধিক বুথে৷ বুথের ভেতর ও বাইরের টুকরো টুকরো সেই দৃশ্যই আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করছি পাঠকদের কাছে৷

দৃশ্য এক: যতীন দাস রোডের বিভূকিঙ্কর হাইস্কুল৷ বেলা ১১টা পর্যন্ত বুথে এজেন্ট বলতে ছিল সিপিএম আর তৃণমূলের৷ ১১টা০২৷ অদৃশ্য কারণে মাথা নিচু করে বুথ ছাড়লেন সিপিএমের এজেন্ট৷ স্কুলের পিছনে মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বে একটি বহুতল আবাসনের নিচে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে পড়েছেন একদল মানুষ৷ পিছনে পতপত করে উড়ছে তৃণমূলের ঝাণ্ডা৷

দৃশ্য দুই: ইছাপুর রোডের সুভাষ বিদ্যাপীঠ৷ বেলা ১১টা১০ মিনিটে শুনশান ভোট গ্রহণ কেন্দ্র৷ না আছে বিরোধী দলের কোনও এজেন্ট৷ না আছে ভোটারদের লাইন৷ ভেতরে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে হাসি মস্করায় ব্যস্ত প্রিসাইডিং অফিসার থেকে তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট৷

আরও পড়ুন: বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে উৎসবের মেজাজে ভোট সুনীল-সাজদার

দৃশ্য তিন: ঘোষপাড়ার গলির ভিতরে পলতা বাদামতলা নেতাজি স্কুল৷ স্থানীয়রা জানালেন, সিপিএমের পোলিং এজেন্ট বুথে এসেছিলেন বটে, তবে সাড়ে ৯টার পর তিনি সেই যে টিফিন করতে বেরিয়েছিলেন আর বুথ মুখো হননি! সংবাদমাধ্যমের পরিচয় জানার পর একগাল হেসে সামনে এগিয়ে এলেন তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট৷ বললেন, ‘‘দেখে যান, আমাদের এখানে ভোট কিন্তু শান্তিতে হচ্ছে৷ আমরা কাউকে কোনও বাধা দিইনি৷ ভাল করে দেখে যান, তা না হলে আপনারা তো আবার উলটো পালটা লিখবেন৷ বলবেন, আমরা সন্ত্রাস করছি!’’

ভোট কেন্দ্র থেকে কয়েক পা এগোতেই চোখে পড়ল একদল যুবকের জটলা৷ দূর থেকে পথচারীদের মাপছিলেন তাঁরা৷ ১০০মিটারের মধ্যে এভাবে তো জটলা করে থাকা যায় না? জবাব এলো, ‘‘দাদা, আমরা এলাকার বাসিন্দা৷ এলাকার শান্তি যাতে বজায় থাকে, সেটা দেখা তো আমাদেরও কর্তব্য! আমরা সেটাই পালন করছি৷’’

দৃশ্য চার: মাদোলডাঙা রোডের পাশেই বিপিনবিহারী গাঙ্গুলি প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ বুথ থেকে ১০০ মিটারের মধ্যেই একটি গাড়ির গ্যারেজের সামনে বসেছে মা-মাটি-মানুষের টেন্ট৷ সেখানে বসে স্বয়ং শাসকদলের কাউন্সিলর মোনালিসা সরকার৷ দলীয় টেন্ট থেকেই চলছে এলাকার ভোট ‘মনিটরিং’৷ একই দৃশ্যর দেখা মিললো ইছাপুর গালর্স প্রাইমারি স্কুলে৷ ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে রীতিমতো প্যান্ডেল খাঁটিয়ে বসে পড়েছেন তৃণমূল কর্মীরা৷ মাঘের দুপুরে চলছে জোর জটলা৷

আরও পড়ুন: দেখা নেই প্রার্থী সন্দীপের, হতাশ নোয়াপাড়ায় গেরুয়া শিবির

বহু বুথে এজেন্ট দিতে পারেনি বিজেপি ও কংগ্রেস৷ তাঁদের অভিযোগ, শাসকের সন্ত্রাসের জেরেই সর্বত্র এজেন্ট দেওয়া সম্ভব হয়নি৷ সিপিএম অবশ্য অধিকাংশ বুথে এজেন্ট দিলেও বেলা গড়াতেই অধিকাংশ বুথই হয়ে গিয়েছে সিপিএম এজেন্ট শূন্য৷ সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘অধিকাংশ বুথই দখল করে নিয়েছে শাসকদল৷ রাজ্য পুলিশও ওদের দলদাস হিসেবে কাজ করছে৷ যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রেখে একচেটিয়া সন্ত্রাসের ভোট করল তৃণমূল৷’’

সাত সকালেই তৃণমূল প্রার্থী সুনীল সিং অবশ্য জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘‘অশান্তির প্রশ্নই ওঠে না৷ মানুষ মমতাদির সঙ্গে রয়েছে৷ ফলে ভোট হচ্ছে উৎসবের মেজাজে৷’’ বিরোধীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘ছাড়ুন তো, হেরে যাবে জেনেই সকাল থেকে কুৎসা করা শুরু করেছে ওরা৷’’

আরও পড়ুন: উলুবেড়িয়ায় সিপিএমের কায়দায় ভোট করানোয় অভিযুক্ত শাসক

অগত্যা, প্রিসাইডিং অফিসার থেকে আধা সামরিক বাহিনী, রাজ্য পুলিশ -রয়েছেন সকলেই৷ আছেন ‘ভোট ম্যানেজার’রাও৷ অতীতের মতো ভোটের দিনে নোয়াপাড়াও রয়েছে সেই অঘোষিত বনধের মেজাজে৷ শুনশান দুপুরে স্বভাবতই তৃপ্ততার হাসি ঝরে পড়ছে ভোট ম্যানেজারদের মুখে৷ বলছেন-‘মানুষ মমতাদির সঙ্গেই রয়েছেন৷ ১ ফেব্রুয়ারি কথাটা মিলিয়ে নেবেন’!

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ