স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আইনসভার ভিতরে খোদ অধ্যক্ষের সামনে তৃণমূল বিধায়কদের কাছ থেকে ‘তুই-তোকারি’ শুনতে হয়েছে বাগদার বিধায়ক দুলাল বরকে৷এই অসম্মানের জন্য তৃণমূলের সংস্কৃতিকেই দুষলেন তিনি৷

কাটমানি ইস্যুতে গতকাল অর্থাৎ সোমবার থেকেই সরগরম বিধানসভার অধিবেশন৷ ওইদিন এবিষয়ে মুলতুবি প্রস্তাব বা ১৮৫ ধারায় আলোচনা চেয়ে ওয়াকআউট করে বিরোধীরা৷মঙ্গলবারও বিধানসভায় উত্তপ্ত পরিবেশ বজায় ছিল৷ সোমবার বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় কাটমানি নিয়ে বাম-কংগ্রেসের হাতে যে পোস্টার ছিল তাতে লেখা ছিল ‘কাটমানি = CM’৷

আরও পড়ুন- এই চা’য়ের এক চুমুকের ম্যাজিকে উধাও হয় ‘ট্র্যাজিক’ বাঙালির অম্বল

এদিন সেই পোস্টারের প্রসঙ্গ তুলে দুলাল বর বলেন, ‘সরকার বলছে কাটমানি নিলে জেল হতে পারে। কাল পোস্টার দেখলাম ‘কাটমানি মানে CM”। এর পরই রে রে করে ওঠেন তৃণমূল বিধায়করা৷ চিৎকার করে এক তৃণমূল বিধায়ক তাঁকে বলেন, ‘তুই কোন দলে আছিস, সেটা আগে বল।’ ট্রেজারি বেঞ্চে যাঁরা বসেছিলেন তাঁদের চিৎকারে আর কিছু বলার সুযোগ পাননি দুলালবাবু৷

আরও পড়ুন- পরমাণু অস্ত্র ছাড়বে উত্তর কোরিয়া বিশ্বাস করে না মার্কিন গোয়েন্দারা; লেফটেন্যান্ট জেনারেল

আইনসভার ভিতরে তৃণমূল বিধায়কদের এমন আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীরা৷ পরে এব্যাপারে কলকাতা 24×7-কে দুলাল বর বলেন, “তৃণমূলনেত্রী যখন মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজিকে নাম ধরে ডাকেন তখন দলের বিধায়করা আর কী শিখবেন!” এটা তো তৃণমূলের সংস্কৃতি৷ অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানাবোন কিনা সে প্রশ্নের ব্যাপারে দুলাল বর বলেন, অধ্যক্ষকে জানিয়ে কি লাভ?” উনি তো একদলীয় অধ্যক্ষ৷ সর্বদলীয় নন৷ ওঁকে বিরোধীরা কিছু বললেন উনি আগে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দিকে তাকান৷তাই ওঁনার কাছে নালিশ করে কোনও লাভ নেই৷মানুষ এদের জবাব দিচ্ছে, আরও দেবে৷”

আরও পড়ুন- হিন্দু-মুসলিম নয়,মেরুকরণের রাজনীতির ফল ভুগবে মানুষ : ABMA

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলে টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসে গিয়েছিলেন দুলালবাবু৷ হাতচিহ্ণে জেতার দুবছর পর ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন তিনি৷কিন্তু বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি তিনি৷ লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপিতে যোগদান করেছেন বাগদার কংগ্রেসি বিধায়ক দুলাল বর।