সুমন আদক, হাওড়া: ২০১৮র পুরভোটকে পাখির চোখ করে বার্ষিক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে জনমোহিনী পুর বাজেট পেশ হল হাওড়া পুরসভায়। নতুন কোনও করের বোঝা না চাপিয়ে ঘাটতিশূন্য বাজেট ঘোষণা করলেন মেয়র ডা: রথীন চক্রবর্তী।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ পুরসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে এই বাজেট পেশ হয়। মেয়র ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান, ডেপুটি মেয়র, মেয়র পরিষদগণ, পুর কমিশনার, কাউন্সিলর ও আধিকারিকরা। এদিন মেয়র বলেন, সামনের বছর ভোটের কথা ভেবে এই বাজেট করা হয়নি। প্রতিবারই আমরা উন্নয়নকে লক্ষ্য রেখে বাজেট পেশ করে থাকি। এবারেও ঘাটতিশূন্য বাজেট আমরা ঘোষণা করেছি। করের বোঝা চাপানো হয়নি। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে উন্নয়ন বরাদ্দের পরিমাণ ধার্য্য করা হয়েছে ৫৫৪.৬৬ কোটি টাকা৷ যা চলতি আর্থিক বছরের তুলনায় ১৭৫.৮৪ শতাংশ বেশি। বাজেটে একদিকে নজর দেওয়া হয়েছে সুশাসনের উপর, অন্যদিকে জোর দেওয়া হয়েছে সর্বাত্মক উন্নয়নের উপর। ভিসন-২০২১ কে সামনে রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক, সাফাই, ক্রীড়া, পরিবেশ, সৌন্দর্য্যায়ন সহ আর্থসামাজিক বিকাশের উপর আলোকপাত করা হয়েছে।

গত বছরের ৪২৪.৬৬ কোটি টাকার চেয়ে ৮৩.৮১শতাংশ বেশী৷ ৭৮০.৫৫ কোটি টাকার উন্নয়নের মোড়কে কার্যত জনমুখী বাজেট পেশ হল হাওড়া পুরসভায়। ৪০০ কোটি টাকার ভিশন-২০২১ সুবৃহৎ উন্নয়নের প্যাকেজ ঘোষণা হল বাজেটে। আগামীদিনে মিউটেশন ও ট্রেড লাইসেন্স নবীকরণ অনলাইনের মাধ্যমে করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। আগামী অর্থবর্ষে অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা হবে । এছাড়াও স্থায়ী কর্মচারীদের ও কাউন্সিলারদের ভ্রমণসাথী প্রকল্পে অবসর যাপনের জন্যে প্রতি দু বছরে একবার বেড়াতে যাওয়ার জন্যে ভ্রমণভাতা চালু ঘোষিত হল হাওড়া পুরসভার এদিনের বাজেটে। এছাড়াও স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মচারীদের ও কাউন্সিলারদের জন্যে গ্রুপ মেডিক্লেম পলিসির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে এই বাজেটে৷ এই বাজেটকে কাজের নয় বেড়ানোর বাজেট বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা।

৩১নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর আশরাফ জাভেদ এনিয়ে পুরসভাকে তীব্র কটাক্ষ করেন। নতুন অর্থবর্ষে সোয়া দু’কোটি টাকার অতিরিক্ত আয়ের সংস্থান করা হলেও কোন অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়নি। মেয়র বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে সড়ক, সাফাই, পরিবেশগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-ক্রীড়া-সংস্কৃতিসহ আর্থসামাজিক বিকাশের দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে হাওড়া শহরকে ঘিরে ফ্লাইওভার ও রিং রোড তৈরি করা হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে। নিকাশি ব্যবস্থার আমুল সংস্কার করা হবে। আম্রুত প্রকল্পের অধীন একটি নতুন ৪০ মিলিয়ন গ্যালন ক্ষমতাসম্পন্ন জল প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। হাওড়া শরৎ সদনের আধুনিকীকরণ ও সেখানে একটি তারামন্ডল, মোমের মুর্তির সংগ্রহশালা ও আর্কাইভ করা হচ্ছে। হাওড়াকে ভ্যাট মুক্ত করতে শহর জুড়ে কম্প্যাক্টর স্টেশন তৈরি করা হবে। বর্য্্ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ডোমজুড়ে জমির ক্রয় ও পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। ডুমুরজলা ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সংস্কার, শৈলেন মান্না স্টেডিয়ামের সংস্কার, একটি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ও আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল নির্মাণ, হাওড়া বাসস্ট্যান্ড ও সংলগ্ন অঞ্চল ঢেলে সাজানো, সঙ্গীত ও নৃত্য অ্যাকাডেমির নতুন ভবন নির্মান, একটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, বালির কেদারনাথ আরোগ্য ভবনের সংস্কার, অর্গানিক চাষের একটি নার্সারি স্থাপন, পদ্মপুকুর ও বেলগাছিয়ায় দুটি নতুন উপনগরী স্থাপন, দানেশ শেখ লেন ও লিলুয়ায় দুটি সুপার মার্কেট নির্মাণ, এবং কালিবাবুর বাজারকে শপিং কমপ্লেক্সে পরিবর্তন করা হবে। এছাড়া ডিউক রোডে একটি ইকোপার্ক স্থাপন করাও হবে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার বাজেট বিতর্কের দিন নির্ধারিত হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ