ভূবনেশ্বর: শেষ দফা ভোটের আগেই অনড় মনোভাব থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিল বিজু জনতা দল৷ ওডিশাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেই মিলবে বিজেডির সমর্থন৷ জানিয়ে দিল নবীন পট্টনায়েকের দল৷

এর আগে কংগ্রেস ও বিজেপির থেকে সম-দূরত্বের নীতিতেই অনড় ছিলেন নবীন পট্টনায়েক৷ কিন্তু এবার সেই নীতিতে আর আটকে থাকা নয়৷ ওডিশার উন্নয়নই বিজেডির প্রধান লক্ষ্য৷ তাই বিশেষ মর্যাদা যে দল দেবে তাদের সঙ্গেই থাকবে ওডিশার শাসক দলটির সমর্থন৷

আরও পড়ুন: গান্ধীজির আত্মাকে মেরে ফেললেন প্রজ্ঞা ঠাকুর: সত্যার্থী

বিজু জনতা দলের সহ সভাপতি এসএন পাত্র বলেন, ‘‘আমরা আর আগের অবস্থানে নেই৷ আমরা যেকোনও পক্ষকে সমর্থন করতে পারি৷ বদলে চাই ওডিশার বিশেষ মর্যাদা৷’’ তাঁর দাবি, ‘‘বিজেডি এবার দিল্লির সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে৷’’

এর আগে ২০০০ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত এনডিএর শরিক ছিল বিজেডি৷ কিন্তু ২০০৯ সালে আসন সমঝোতা নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে জোট ত্যাগ করে নবীন পট্টনায়েক৷ সেই সময় বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক তকমাও দিয়েছিল ওডিশার দলটি৷ তারপর থেকেই গত দশ বছর ধরে কংগ্রেস ও বিজেপির থেকে সম-দূরত্বের নীতি নিয়ে চলেছে বিজু জনতা দল৷ লোকসভা ভোটের আগে তৃতীয় শক্তির সরকার গঠনের পক্ষেও সওয়াল করেন নবীন পট্টনায়েক৷

আরও পড়ুন: বাংলার জন্য মোদীর কাছে গুরুত্ব হারিয়েছে উত্তরপ্রদেশ

গত দু’মাসে মহানদী দিয়ে পেরিয়ে গিয়েছে বহু জল৷ কংগ্রেস যেমন বিজেডির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন৷ তেমনই কেসিআর থেকে চন্দ্রবাবুও কথা বলেছেন নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে৷ এদিকে ফণী পরবর্তী সময়ে ভূবনেশ্বরে গিয়ে নবীন পট্টনায়েক সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন

প্রধানমন্ত্রী মোদী৷ এসএন পাত্রর কথায় গেরুয়া শিবিরের প্রতি বিজেডির কঠিন মনোভাব উধাও৷
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যায়, রাজনীতিতে স্থায়ী মিত্র বা শত্রু হয় না৷ এনডিএ বা ইউপিএ, দু’পক্ষই এখন বিজেডির সমর্থন পেতে মরিয়া৷ আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে ঘর গুছোচ্ছে৷ এই পরিস্থিতিতে সমর্থনের দাবি পেশ করে একদিকে জল মাপা, অন্যদিকে দরকষাকষির সুযোগ খুলে রাখলো ওডিশার শাসক দল৷