তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: পঞ্চায়েত ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল গ্রামের প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা পৌছে দেওয়ার জন্য৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাতেও অাধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে৷ কিন্তু জঙ্গলমহলের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির চেহারা কি বদলেছে? এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এটা একটা বড় ইস্যু৷

আর এর মধ্যেই মাথা চাডা় দিচ্ছে বাঁকুড়ার সারেঙ্গার কুড়চিডাঙ্গা গ্রামে ১১৬ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের অস্থায়ী রান্নাঘরের সমস্যা৷ ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের একটি স্থায়ী রান্নাঘর দরকার৷ বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্যরা এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেননি৷ যার নতুন করে দায়িত্ব পাবেন তারা কী নতুন রান্না ঘরের ব্যবস্থা করবেন? এটাই বড় প্রশ্ন৷

আরও পড়ুন: অসুস্থ কংগ্রেস প্রার্থীর সাহায্যে এগিয়ে এলেন সব দলের নেতারা

তবে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী বন্দনা দত্ত বলেন, “দূর থেকে খাবার রান্না করে আনা খুব অসুবিধে। এখানে গাছের তলায় রান্না করাও বিপদজনক। রান্নাঘর খুব দরকার। আমি রান্নাঘরের জন্য স্থানীয় সদস্য থেকে পঞ্চায়েত, সিডিপিও সকলকে বারবার জানিয়েছি। কোনও লাভ হয়নি৷’’

এখন খোলা আকাশের নিচে গাছের তলায় রান্না হয়৷ তাই নিয়েই অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের বিষয়টি বারবার জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

আরও পড়ুন: বিনামূলে দেখা যাচ্ছে ‘ব্ল্যাকমেল’, সৌজন্যে ‘প্যারেসি’

সারেঙ্গা ব্লক এলাকার কুড়চিডাঙ্গা গ্রামে ১১৬ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গ্রামের শিশুরা পড়াশুনা করে। এখান থেকেই পড়ুয়া ও গর্ভবতী মহিলাদের রান্না করা খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু সেই খাবারের গুণগত মান নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন গ্রামবাসীরা৷ কারণ, ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব কোনও রান্নাঘর নেই। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই খোলা আকাশের নিচে গাছের তলায় রান্না করা হয়। শিশুদের জন্য তৈরি করা খাবারে কখনও নোংরা উড়ে এসে পড়তে পারে৷

ফলে এক প্রকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য রান্না করা হয় দীর্ঘ দিন থেকে৷ গ্রামবাসীর বক্তব্য এই খাবার খেয়ে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে তার দায় কে নেবে? স্থানীয়রা বাসিন্দা পূর্ণিমা দাস বলেন, ‘‘গ্রামের এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব কোনও রান্না ঘর নেই। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। অনেক সময় গাছের উপর থেকে পোকামাকড় বা বিষাক্ত জাতীয় কিছু পড়ে যাওয়ার কারণে রান্না করা খাবার ফেলে দিতে হয়েছে৷’’

আরও পড়ুন: সুখবর! আইপিএলের মাঝেই বাবা হচ্ছেন বিরাট

এবিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে বলা হয়, পঞ্চায়েত ভোট আছে কিছু বলা যাবে না৷ এখন দেখার পঞ্চায়েত নির্বাচেনর পর নতুন পঞ্চায়েত রান্নাঘরের ব্যবস্থা করে দেয় কি না৷