লোকসভা কেন্দ্র: কোচবিহার

২০১৪ সালের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের এই লোকসভা কেন্দ্রটি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে গিয়েছিল৷ জোড়াফুল প্রার্থী রেণুকা সিনহা জয়ী হয়েছিলেন৷এবার তৃণমূল কংগ্রেসের এখানে প্রার্থী ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাক্তন বিধায়ক-মন্ত্রী পরেশ চন্দ্র অধিকারী ৷

১৯’এর নির্বাচনে এই কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীদের নাম:

তৃণমূল কংগ্রেস: পরেশ চন্দ্র অধিকারী

কংগ্রেস: পিয়া রায়চৌধুরী

বামফ্রন্ট: গোবিন্দ চন্দ্র রায়

বিজেপি: নিশীথ প্রামাণিক

কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রটি তফসিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত৷ এই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা: ১,৬১৩,৪১৭

এই কেন্দ্রের অধীনে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র:

মাথাভাঙা, কোচবিহার উত্তর, কোচবিহার দক্ষিণ, শীতলকুচি, সিতাই, দিনহাটা, নাটাবাড়ি

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল:

মাথাভাঙা: এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ ৯৬,৩৮৩ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বামফ্রন্ট প্রার্থী খগেন চন্দ্র বর্মণ৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৬৪,৪৬৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন৷ বিজেপি প্রার্থী সুশীল বর্মণ ছিলেন তৃতীয় স্থানে৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৩১,২৫৮ হাজার৷

দল – প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস – ৯৬,৩৮৩
বামফ্রন্ট- ৬৪,৪৬৫
বিজেপি- ৩১,২৫৮

কোচবিহার উত্তর: এই বিধানসভা কেন্দ্রে ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী নগেন্দ্রনাথ রায় ৯৭,৬২৯ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরিমল বর্মণ৷তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৮৫,৩৩৬ হাজার৷বিজেপি প্রার্থী সুকুমার রায় ছিলেন তৃতীয় স্থানে৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৩০,০২৫ হাজার৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
বামফ্রন্ট- ৯৭,৬২৯
তৃণমূল কংগ্রেস- ৮৫,৩৩৬
বিজেপি- ৩০,০২৫

কোচবিহার দক্ষিণ: এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মিহির গোস্বামী ৮২,৮৪৯ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের দেবাশিস বণিক৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৬৪,৬৫৪ হাজার৷ তৃতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী নিখিল রঞ্জন দে৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১৮,১৭৬ হাজার৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস-৮২,৮৪৯
বামফ্রন্ট- ৪,৬৫৪
বিজেপি- ১৮,১৭৬

শীতলকুচি: ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিতেন বর্মণ ১,০১,৬৪৭ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বামফ্রন্ট প্রার্থী নমদীপ্তি অধিকারী৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৮৬,১৬৪ হাজার৷তৃতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী বরেনচন্দ্র বর্মণ৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ২৭,৩৪৭ হাজার৷

দল – প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ১,০১,৬৪৭
বামফ্রন্ট- ৮৬,১৬৪
বিজেপি- ২৭,৩৪৭

সিতাই: এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জগদীশ চন্দ্র বর্মা বাসুনিয়া ১,০৩,৪১০ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ কংগ্রেস প্রার্থী কেশব চন্দ্র রায় ৭৮,১৫৯ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন৷বিজেপি প্রার্থী ভবেন চন্দ্র রায় ২৭,৮০৯ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছিলেন৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ১,০৩,৪১০
কংগ্রেস- ৭৮,১৫৯
বিজেপি- ২৭,৮০৯

দিনহাটা: এই বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী উদয়ন গুহ৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১,০০,৭৩২৷ ৭৮৯৩৯ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন বামফ্রন্টের অক্ষয় ঠাকুর৷বিজেপি প্রার্থী শচীন্দ্রনাথ অধিকারী ২৫,৫৯৮ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ১,০০,৭৩২
বামফ্রন্ট- ৭৮,৯৩৯
বিজেপি- ২৫,৫৯৮

নাটাবাড়ি: এই কেন্দ্রটিও নিজেদের দখলে রেখেছিল তৃণমূল কংগ্রেস৷ তাদের প্রার্থী রবীন্দ্র নাথ ঘোষ ৯৩,২৫৭ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ বাম প্রার্থী তামসের আলি পেয়েছিলেন ৭৭,১০০ হাজার ভোট৷ বিজেপি প্রার্থী আলি হোসেন ২১,৫২৪ হাজার ভোট পেয়ে তিন নম্বর স্থানে ছিলেন৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ৯৩,২৫৭
বামফ্রন্ট- ৭৭,১০০
বিজেপি- ২১,৫২৪

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অধিকাংশই আসনেই নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে লড়েছিল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট৷ কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে একটি আসনে লড়েছিল কংগ্রেস৷

এই সাতটি বিধানসভার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসই ছ’টি বিধানসভায় জিতেছে৷ সাতটি বিধানসভা মিলিয়ে তাঁদের মোট প্রাপ্ত ভোট ( ৯৬,৩৮৩ + ৮৫,৩৩৬+ ৮২,৮৪৯+ ১,০১,৬৪৭+১,০৩,৪১০+ ১,০০,৭৩২+ ৯৩,২৫৭)= ৬,৬৩,৬১৫ হাজার৷ বাকি একটি বিধানসভার দখল নিয়েছে বিজেপি৷ সাতটি বিধানসভা মিলিয়ে তাদের মোট প্রাপ্ত ভোট ( ৩১,২৫৮+ ৩০,০২৫+ ১৮,১৭৬+ ২৭,৩৪৭ + ২৭,৮০৯+ ২৫,৫৯৮+২১,৫২৪ )= ১,৮১,৭৩৭ হাজার৷ বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস প্রার্থীদের মোট প্রাপ্ত ভোট আলাদা করে হিসেব করলে দেখা যাবে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস পেয়েছে ৭৮,১৫৯(একটি আসন) হাজার৷ বামফ্রন্ট পেয়েছে ( ৬৪,৪৬৫+ ৯৭,৬২৯+ ৬৪,৬৫৪+ ৮৬,১৬৪ + ৭৮,৯৩৯+ ৭৭,১০০)= ৪,৬৮,৯৫১ হাজার ভোট৷এবার নির্বাচনে দুই দলই আলাদা লড়ছে৷

২০১৬ সালের সাতটি বিধানসভা ভোটের ফলাফল বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল৷ যদিও বিরোধী বাম-কংগ্রেস-বিজেপি প্রার্থীদের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচন আর লোকসভা নির্বাচনের ইস্যু সম্পূর্ণ আলাদা৷তাই বিধানসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে লোকসভা ভোটের ফলাফল বিচার করা ঠিক হবে না৷