সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : হাতে সোনা পেয়েও চিনতে পারেননি পরিচালক। হয়তো তিনি জহুরি ছিলেন না। না হলে এমন ভুল কেউ ভুলেও করতেন না। যেটা করেছিলেন নীরেন লাহিড়ী। পাত্তাই দিতে চান নি আগামীর সুপারস্টারকে। ফল পেয়েছিলেন। তবে সেটা একবার নয় সারা জীবন ধরে। অনেক কষ্টে একটি ছবি ছাড়া তাঁর কোনও ছবিতেই আর নায়িকা হিসাবে পাওয়া হয়নি মহানায়িকাকে। আর তা সম্ভব হয়েছিল উত্তম কুমারের জন্য।

ধারাবাহিকে অনেক কিছুই সম্ভব। কিন্তু আদতে উত্তম সুচিত্রার সম্পর্ক কেমন ছিল তা বোঝা মুশকিল। তা হয়তো তাঁরাই জানতেন। নায়কের বেচাল দেখলেই যেমন সামলাতেন নায়িকা। তেমনই নায়িকার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করাতে হলে সম্ভবত সেটা পারতেন একমাত্র উত্তমই। অন্তত ফিল্ম জগতে তেমন কথাই শোনা যায়। নীরেন রায়ের ঘটনা তারই প্রমান। “সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবির আগে সুচিত্রা সেনের প্রথম হিট ছবি। তবে তাকেও লড়াই করতে হয়েছে। সহজেই মহানায়িকা হয়ে যাননি।

১৯৫৩ সালে নীরেন লাহিড়ীর ‘কাজরি’ ছবিতে সুচিত্রা সেন ছিলেন পার্শ্ব চরিত্রে। তবে চরিত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এরপরেও ছবির পোস্টারে সুচিত্রা সেনের ছবি ছিল না। মহানায়িকা তখনও মহানায়িকা হয়ে ওঠেননি। তবু ভিতরে ভিতরে সেই ভিতটা হয়তো তৈরি করে ফেলেছিলেন। অপমানটা ভোলেননি সুচিত্রা সেন। ইন্দ্রাণী ছবিতে নীরেন লাহিড়ি চাইছেন উত্তম সুচিত্রা জুটিকে। নায়িকা কিছুতেই কাজ করবেন না। অপমান কি করে ভুলে যান।

পরিচালক চাইছেন নিজেই বলতে কিন্তু বলতে পারছেন না। টাকার টোপ দিয়ে যে কাজ একেবারেই হবে না তা তিনি জানতেন। হিতে বিপরীত হতে পারে। শেষে উপায় নেই বুঝে একদম সেফ খেললেন। উত্তম কুমারের কাছে গিয়ে বললেন যদি তিনি কিছু করতে পারেন। মহানায়ক সেই বার্তা নিয়ে গেলেন মহানায়িকার কাছে। প্রথমে রাজি না হলেও বেশিক্ষণ অরাজি হয়ে থাকতে পারেননি। কাজ করেছিলেন। আর সেই ছবি বক্স অফিসে সুপার ডুপার হিট।

এইটাই শেষ এরপরে পরিচালক বহু ছবি করেছেন। কিন্তু সেই সময়ের সেরা জুটিকে তিনি আর কোনও ছবিতেই পাননি। তিনি জানতেন উত্তমকে পেলেও পাওয়া যেতে পারে সেদিনের রমা, না তাকে আর পাওয়া যাবে না।

এমনই ছিলেন উত্তম এবং তাঁর সুচিত্রা। মহানায়কের মহানায়িকা।