তিরুঅনন্তপুরম: ৫১ জন নয়৷ প্রথা ভেঙে মাত্র দু’জন ঋতুমতী মহিলা পা রেখেছেন আয়াপ্পা মন্দিরে৷ তারা হলেন কনকদুর্গা ও বিন্দু৷ সোমবার বিরোধী দলের এক বিধায়কের প্রশ্নের জবাবে এমনটাই জানাল কেরল সরকার৷

কনকদুর্গা

এর আগে ১৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টকে কেরল সরকার জানিয়েছিল, শীর্ষ আদালতের ঐতিহাসিক রায়ের পর শবরীমালা মন্দিরে ৫১ জন মহিলা প্রবেশ করেছে৷ কিন্তু এই তথ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে৷ গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর এক ঐতিহাসিক রায়ে শবরীমালা মন্দিরে সববয়সী মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট৷ তারপর থেকে যতবার ঋতুমতী মহিলারা আয়াপ্পা দর্শনে গিয়েছে ততবার রক্ষণশীল ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতাদের রোষের শিকার হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে৷ নয়া ইতিহাস তৈরি হয় চলতি বছর ২ জানুয়ারি৷ ওই দিন কনকদুর্গা ও বিন্দু নামে দুই ঋতুমতী মহিলা পৌঁছে যান আয়াপ্পার দৌড়গোড়ায়৷ প্রথম দুই মহিলা হিসাবে তারাই এই সম্মান আদায় করে নেন৷

তারপর ১৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টকে লিখিতভাবে জানানো যে শবরীমালায় এখনও অবধি ৫১ জন ঋতুমতী মহিলা প্রবেশ করেছে৷ অথচ কনকদুর্গা ও বিন্দুর পর আর কোনও মহিলা শবরীমালায় ঢুকতে পারেননি৷ তাহলে মাত্র ১৬দিনে বাকি ৪৯ জন মহিলা কোথা থেকে প্রবেশ করল৷ এই নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে৷ এরপর সুপ্রিম কোর্টের কাছে ৫১ জনের যে নামের তালিকা পাঠানো হয় সেটি খতিয়ে দেখা হয়৷ সেখানেই ধরা পড়ে নানা গড়মিল৷ অনেক পঞ্চাশোর্ধ মহিলার নাম পাওয়া যায় ওই তালিকায়৷ এমনকী দু’জন পুরুষের নামও ছিল তাতে৷ এই নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে কেরল সরকার৷

পরে ভুল সংশোধন করে রাজ্যের মন্ত্রী সুরেন্দ্রান জানান, মন্দির এক্সজিগিউটিভ অফিসারের রিপোর্ট অনুযায়ী দুই জন মহিলা আয়াপ্পা মন্দিরে প্রবেশ করেছে৷ এছাড়া ৪৭ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কার বাসিন্দা শশীকলার মন্দিরে প্রবেশ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায়৷ তিনি সত্যিই মন্দিরে প্রবেশ করেছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়৷ শশীকলার তরফে নিশ্চয়তা পেলে সংখ্যাটি বেড়ে তিন হবে৷