কলকাতা: আগে জানা গিয়েছিল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল করা হবে৷ কিন্ত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ‘এমআর বাঙুর হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল করা হয়েছে৷

এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, করোনা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। করোনা আক্রান্তরা অনেকে ভাল হচ্ছেন। চিকিৎসায় সাড়া মিলছে। এমআর বাঙুর হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল করা হয়েছে। সেখানকার রোগীদের এসএসকেএম, শম্ভুনাথ পণ্ডিত এবং কলকাতা পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।

এছাড়া রাজ্যে মোট ২০৬ টি কোয়রেন্টাইন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।সরকারি কোয়রেন্টাইন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৮৯২ জন। এই পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৩ হাজার ২১৮ জন। করোনা চিকিৎসার জন্য রাজ্যে ৫৯টি হাসপাতালকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে করোনা নিয়ে কিছুটা স্বস্তির খবর শোনালেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। রাজ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ৯ জন। এই নিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়াল মোট ১২জন৷ তবে পাশাপাশি তিনি এটাও জানিয়েছেন, এই দু’সপ্তাহে একটু বাড়বে, তবে চিন্তার কারণ নেই। আমরা চিকিৎসা করে সুস্থ করব।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা আক্রান্তরা অনেকে ভাল হচ্ছেন। চিকিৎসায় সাড়া মিলছে। এই পর্যন্ত মোট ১২ জন সুস্থ হয়েছেন। আগেই ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন৷ বেলেঘাটা আইডিতে আজ আরও ৯ জন সুস্থ হয়েছেন। সেখানে যাঁরা ভর্তি রয়েছেন, তাঁরা সকলে ভাল আছেন। তাই আজ আমার মনটা একটু ভাল৷

অন্য়দিকে, বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্য়া বেড়েছে৷ মুখ্য়মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য়ে আক্রান্তের সংখ্য়া ৩৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮। তারমানে রাজ্যে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্য়া ৪৷ হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১ হাজার ৮৯২ জন। রাজ্য়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫২ হাজার ২৯।

রাজ্যের বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই কমিটির রিপোর্টে বলা হয় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩। আর ২৪ ঘন্টায় নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৭।

কিন্তু এই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন তথ্য দিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। বিশেষজ্ঞদের কমিটির সেই রিপোর্ট নস্যাৎ করে মুখ্যসচিবের দাবি আসলে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম। সাতজনের মৃত্যু করোনা আক্রান্ত হয়ে হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

নবান্ন থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা বলেন, রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ নয়, ৩৪। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ৩৪ জনের শরীরে সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে মৃতের সংখ্যাও সাত নয় বলে জানিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন রাজীব সিনহা। তিনি বলেন, অন্যান্য প্রাণঘাতী অসুখ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তাঁরা। এই সাতজনের মধ্যে কেবল মাত্র তিনজনের মৃত্যু করোনাভাইরাস হয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। বাকিদের মৃত্যু অন্য কোনও অসুখে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাদের মৃত্যুর সঙ্গে করোনার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি মুখ্য সচিবের।