কলকাতা: লোকসভা ভোটে বিজেপির বাড়বাড়ন্তের পর গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার ধুম। সব মিলিয়ে এবার একুশে কিছুটা হলেও চিন্তায় ছিল তৃণমূল। ঐতিহ্যের একুশে ভিড় জমবে তো? ২০ মিনিট আগে নেত্রীর বক্তৃতা শুরু হয়ে যাওয়ার বিষয়টাও সেই আশঙ্কার কথাই সামনে এনেছে। ছবি কিংবা ভিডিওতে দেখা গিয়েছে ভিড়ের ঘাটতি। তাই তৃণমূলের এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করতে অসুবিধা হয়নি বিরোধীদের।

রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ আগেই বলেছেন শহিদ দিবস তৃণমূলের ফ্লপ শো। ডিম ভাত খাইয়ে আর লোক টানা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এবার সেই একই ইস্যুতে কটাক্ষ করলেন আর এক বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। একুশে জুলাইয়ের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি দেখিয়েছেন মমতার বক্তব্য চলাকালীন কতটা ফাঁকা ধর্মতলা চত্বর।

একটি ট্যুইটে তিনি স্মরণ করিয়েছেন আগে কেমন ভিড় হত একুশে জুলাইতে। ২৫ বছর ধরে শহিদ দিবস পালন করছে তৃণমূল। বাবুল সুপ্রিয় বলেন, তাঁর তরুণ বয়সের কথা মনে পড়ছে, যখন একুশে জুলাইতে বহু মানুষ আসতেন। ভিড় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ থেকে যোগাযোগ ভবন পেরিয়ে যেত। বাবুল বলেন, এবার ভিড় কোনোরকমে পৌঁছেছে টিপু সুলতান মসজিদ পর্যন্ত।

তাঁর মতে, এই ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে তৃণমূল মুক্ত বাংলা আর বেশি দূরে নেই। বাবুলের দাবি, এবার হয়ত লাখ খানেক মানুষ এসেছিলেন।

ভিড়ের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘ফটোশপই দিদির মুখ রক্ষার একমাত্র উপায়।’

রবিবার টিপু সুলতান মসজিদের কাছে কয়েকজন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীকেও সভার লোক সমাগম গিয়ে আলোচনা করতে শোনা গিয়েছে।

তাঁদের বক্তব্য, ওই চত্বরে ২০ হাজারের বেশি লোক হয়নি। ২১ জুলাইয়ের ভিড়ের রেকর্ড প্রতিবছর ভাঙাটাই তৃণমূলের কাছে চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এবার সেই চ্যালেঞ্জ তৃণমুল নেয়নি। এবার তাঁদের লক্ষ্য ছিল গতবারের ভিড়টাকে ধরে রাখা। বলে রাখা ভালো, তৃণমূল নেতৃত্ব এর একাংশ মনে করে গতবছর সবথেকে বেশি ভিড় হয়েছিল একুশের সভায়। কিন্তু সেই ভিড়টাকেও এবার ধরে রাখতে পারেনি ঘাসফুল। যেটা তাঁদের বেশ চাপে ফেলেছে বলে খবর।

তবে দিদির বার্তা শুনে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন তৃণমূল কর্মী বলেন, “দিন তো সবসময় একরকম যায় না। দেখবেন যারা আজ এলো না বিধানসভা ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর পর তারা আবার একুশের সভায় আসবে।”

অর্থাৎ বিরোধীদের মুখে জবাব দিতে পারবে কিনা শাসক দল, সেই উত্তর পাওয়া যাবে একুশে (২০২১)।