হায়দরাবাদ: বিরোধী জোটের উপর কী ভরসা হারালেন কংগ্রেস সভাপতি৷ সোমবার তেলেঙ্গানার প্রচারে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য ঘিরে সেই প্রশ্নই সামনে এল৷

ভোট ঘোষণার পর এই প্রথম দক্ষিণী রাজ্য তেলেঙ্গানায় যান কংগ্রেস সভাপতি৷ সেখানেই প্রচার সভায় রাহুল বলেন, ‘‘একমাত্র কংগ্রেসই পারে দিল্লি থেকে মোদী সরকারকে হঠাতে৷’’ একই সঙ্গে রাজ্যে বিজেপি-টিআরএস আতাঁত রয়েছে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রাগা৷

কর্মসংস্থান ও শিক্ষা নিয়েও এদিন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রাহুল গান্ধী৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রতিবেশী চিন প্রতি ২৪ ঘন্টায় পঞ্চাশ হাজার কর্মসংস্থান করছে৷ আর ভারতের হাল করুন৷ সৌজন্যে বিজেপি সরকার৷ আমাদের দেশে প্রতি দিন ২৭ হাজার কর্মচ্যূতি ঘটছে৷’’

আরও পড়ুন: ‘বহুজন জুতিয়া পার্টি’: বিজেপিকে তোপ আরএলডি নেতার

ক্ষমতায় আসার আগে মোদী বলেছিলেন প্রতি বছরপ দু’কোটি কর্মসংস্থান হবে৷ বাস্ত যা সোনার পাখর-বাটি হয়েই থেকে গিয়েছে৷ এদিন প্রচারে মোদীর ভুয়ো প্রতিশ্রুতি নিয়েও সরব ছিলেন রাহুল৷ জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন ছিন, ‘আপনারা কেউ চাকরি পেয়েছেন?’ কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, বিগত ৪৫ বছরের মধ্যে মোদীর শাসনকালেই দেশে কর্মচ্যূতির হার সবচেয়ে বেশি৷ নোটবন্দি ও জিএসটি নিয়েও মুখ খোলেন রাহুল৷

আরও পড়ুন: শান্তিপ্রিয় হিন্দুদের জঙ্গি তকমা দিয়েছে কংগ্রেস, তোপ মোদীর

মোদী পারেননি, তবে পালটা প্রতিশ্রুতি দিতে ভুল করেননি রাগা৷ জানিয়ে দেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে জাতীয় রাজনীতির ৬ শতাংশ খরচ হবে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে৷ তৈরি হবে নতুন স্কুল, কলেজষ পড়ুয়াদের দেওয়া হবে বৃত্তি৷

বিরোধী জোটে সামিল হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল টিআরএসের৷ কিন্তু কংগ্রেস থাকায় আপত্তি জানান চন্দ্র শেখর রাও৷ তেলেঙ্গানায় একাই লড়ছে তাঁর দল৷ কিন্তু রাহুল গান্ধী’র অভিযোগ, এইসবই বিজেপির নির্দেশ৷ আসলে বিজেপি ও টিআরএসের আতাঁত রয়েছে৷ রাজ্যবাসীকে তাঁর হুশিয়ারি, ‘‘ টিআরএস-কে ভোট দিলে আসলে তা গিয়ে জমা হবে বিজেপির ঝুলিতেই৷ ফলে ভোট দিন দেখেশুনে৷’’ সেখানেই তাঁর সংযোজন, ‘‘টিআরএস নয়, মোদীকে হটাতে পারে একমাত্র কংগ্রেসই৷’’

আমেঠির পাশাপাশি দক্ষিণী রাজ্য কেরালার ওয়ানাড থেকে ভোটে লড়ছেন রাহুল গান্ধী৷ সমালোচনায় সরব সিপিএম৷ বাংলাতেও জোটের শরিক তৃণমূলের বিরোধীতা করেছেন রাহুল৷ জোট হয়নি বামেদের সঙ্গে৷ বুয়া-বাবুয়ার ঠেলায় উত্তরপ্রদেশের বিরোধী জোট বৃত্তে ব্রাত্য কংগ্রেস৷ এই পরিস্থিতিতে লড়াই যে কঠীন বুঝতে পারছেন কংগ্রেস সভাপতি৷ তাই অন্যদের প্রতি নরম হয়ে নয়, কিছুটা আগ্রাসী হয়েই প্রচারে এি ধরণের মন্তব্য রাহুলের৷ মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষেকরা৷