শ্রীনগর: জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকে এই এক বছর সন্ত্রাসের বাড়বাড়ন্ত অনেক কমেছে উপত্যকায়। এমনই দাবি করলেন জম্মু কাশ্মীর পুলিশের ডিজিপি দিলবাগ সিং। তাঁর দাবি এই দশকের মধ্যে সবথেকে কম সন্ত্রাসের হার এখনই।

বৃহস্পতিবার দিলবাগ সিং বলেন ক্রমাগত ভারতীয় সেনার সন্ত্রাসদমন অভিযান, একের পর এক জঙ্গি নেতাকে নিকেশের জন্যই এই সাফল্য এসেছে। এরই সঙ্গে রয়েছে কড়া পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে বছরের শুরুতে যেখানে ৩৫০-৪০০ জঙ্গি সক্রিয় ছিল উপত্যকায়, সেই সংখ্যা কমে ২০০তে দাঁড়িয়েছে।

ডিজিপির বক্তব্য ২০১৯ সালে জুলাই পর্যন্ত খতম করা হয়েছিল ১৩১ জন জঙ্গিকে। কিন্তু জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নিকেশ করা হয় মাত্র ২৯জনকে। সেই মুহুর্তে জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা দিকে নজর দেওয়ার দরকার ছিল। তবে ২০১৯ সালে ৬৭টি অপারেশন চালিয়ে ১৬০ জন জঙ্গিকে মারা সম্ভব হয়েছিল।

পুলিশের হিসেব বলছে ২০১৯ সালে পাঁচ হাজারেরও বেশি বার এলাকা কর্ডন করে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ২০২০ সালে এখনও পর্যন্ত ১৫০জন জঙ্গিকে নিকেশ করা গিয়েছে। ১৫০ জন জঙ্গির মধ্যে ৩০ জন বহিরাগত ও ১২০ জন স্থানীয় বাসিন্দা। এর মধ্যে রয়েছে ৩৯জন টপ কমান্ডার।

এদিন দিলবাগ সিং বলেন কড়া নজরদারির জন্য বন্ধ অনুপ্রবেশ। এখন পাকিস্তান অস্ত্র সরবরাহের জন্য মানবহীন ড্রোন ব্যবহার করছে।

এর আগে, কাশ্মীরের ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ বিজয় কুমার ট্যুইট করে জানান, ত্রল অঞ্চলে হিজবুল মুজাহিদিনের কোনও জঙ্গি নেই। ১৯৮৯ থেকে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটেছে।

হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিগোষ্ঠীর উচ্চস্তরের কম্যান্ডার যেমন বুরহান ওয়ানি এবং জাকির মুসাও ত্রলেরই অংশ ছিল। কিছুদিন আগে একসঙ্গে নয়টি বড় অপারেশন চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। সবক’টি অপারেশনে ২২ জন জঙ্গিকে নিকেশ করা সম্ভব হয়েছে।

২২ জন জঙ্গির মধ্যে ছয়’জন টপ কম্যান্ডার রয়েছেন। কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদে একটা ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনা। সেনা সূত্রে খবর চলতি বছরে যতবার হামলা হয়েছে জঙ্গিদের, প্রত্যেক বারই দেখা গিয়েছে হয় ব্যর্থ হয়েছে, নয়তো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হয়েছে। সেনা বলছে জঙ্গিদের হামলা ধরণে স্পষ্ট ছাপ রয়েছে অপরিকল্পিত পদ্ধতির। যেটা আগে ছিল না।

সূত্রের খবর কাশ্মীরিদের একাংশ যেভাবে জঙ্গিদের সাহায্য করত, সেই সাহায্য এখন আর পাচ্ছে না জঙ্গি সংগঠনগুলি। সেনার মত, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জনপ্রিয়তার ভিত্তিও কমে এসেছে। ফলে হালে পানি পাচ্ছে না জঙ্গিরা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও