নয়াদিল্লি: আসন্ন লোকসভা লোকসভা নির্বাচনে একটি বিষয় নিয়ে বেশ চর্চা চলছে৷ তা হল মোট ১৭৩ জন প্রার্থীর মাঝে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৩৷ অর্থাৎ মোট প্রার্থীর মাত্র ৭ শতাংশ৷গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল, যেমন আম আদমি পার্টি, কংগ্রেস ও বিজেপির তরফ থেকে মাত্র একজন করে মহিলা প্রার্থী দেওয়া হয়েছে৷ ১২ই মে দিল্লিতে নির্বাচন হতে চলেছে৷

২০১৪ সালে ১৫০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন৷ তার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন মহিলা প্রার্থী৷ সেই প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র একজন বিজেপির মীনাক্ষি লেখি জয় পেয়েছিলেন৷ ২০০৯ সালে ১৬০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন মহিলা প্রার্থী ছিলেন৷ সেবারও জয় পেয়েছিলেন মাত্র একজন মহিলা প্রার্থী৷

এবছর কংগ্রেসের তরফ থেকে লড়াইয়ে নেমেছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দিক্ষিত৷ বিজেপির হয়ে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন আইনজীবী-রাজনীতিবিদ মীনাক্ষি লেখি৷ আম জনতা পার্টির হয়ে লড়ছেন অতিসি মারলেনা৷ ১৭৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্রকেই বৈধ বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন৷

আরও পড়ুন : ২৩ মে-র পর হাওয়া কোনদিকে বুঝবেন মমতা: দিলীপ ঘোষ

১৬ই এপ্রিল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৩৪৯ জন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন৷ মঙ্গলবারই ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন৷ দিল্লিতে মোট ১.৪৩ কোটি ভোটারের মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৬৪ লক্ষ৷ পুরুষ ভোটার সেখানে ৭২ লক্ষ৷ তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ৬৬৯৷

দিল্লিতে লোকসভা ভোটে যেখানে এত কম সংখ্যক মহিলা প্রার্থী, সেখানে অন্য ছবি ছত্তিসগড় বিধানসভায় শতাংশের বিচারে সবথেকে বেশি রয়েছে মহিলা প্রার্থী। অ্যাসোশিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফরমস-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের বিধানসভাগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি মহিলা বিধায়ক আছেন ছত্তিসগড়ে।

এর আগে বিজেপিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলেরই মুখপাত্র সাইনা৷ এরই সঙ্গে প্রশংসা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের৷

আরও পড়ুন : ৫০ আইএস জঙ্গির ওপর নজর গোয়েন্দাদের, হামলার আশঙ্কা ভারতে

ইস্যু লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের প্রতিধিত্বের হার৷ সেই ইস্যুতে যে বেশ পিছিয়ে বিজেপি, তা পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে৷ মহারাষ্ট্রের ৪৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে মাত্র ১৩টি আসনে মহিলা প্রার্থী৷ সেদিকে পশ্চিমবঙ্গে ৪১ শতাংশ আসনে তৃণমূলের মহিলা প্রার্থী আর ওড়িশায় ৩৩টি আসনে বিজেডি মহিলা প্রার্থী দিয়েছে৷

সাইনার মতে মমতা ও নবীনকে দেখে শেখা উচিত অন্যান্য দলের৷ বিশেষ করে বিজেপি এর থেকে শিক্ষা নিয়ে জেগে ওঠা উচিত৷ শুধু বড় বড় কথা বললেই হয় না, তা কাজেও করে দেখাতে হয় বলে মত সাইনার৷ মহিলা প্রার্থীদের ক্ষমতায়ন জরুরি৷ বিজেপির এই মুখপাত্র বলেছিলেন মহিলাদের সুযোগ করে দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসার সময় হয়েছে৷