সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ম্যানুয়াল টিকিট কাটার ব্যবস্থাকে বাঁচিয়েই অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু করেছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। সর্বত্রই এখন অনলাইনের রমরমা। রেল থেকে সিনেমা প্রত্যেক ক্ষেত্রেই অনলাইন টিকিট কাটার ব্যবস্থা এসে গিয়েছে। সেখানে কাগজের টিকিট বিক্রি ক্রমশ কমে যাচ্ছে। কিন্তু অনলাইন ব্যবস্থাকে না জানা কর্মীদের পেটে টান পড়তে পারে। এই কর্মীদের বাঁচিয়ে রেখেই অনালাইনের দিকে এগিয়েছে শহরের চিড়িয়াখানা।

আলিপুর চিড়িয়াখানার বহুদিন টিকিট কাটা হয়েছে পাঞ্চিং মেশিনের মাধ্যমে। যা প্রকৃত মানুয়্যাল পদ্ধতি। ক্রমে পরিবর্তন হয়েছে যুগের। পরিবর্তন হয়েছে চিড়িয়াখানার টিকিট কাটার ব্যবস্থার। ইলেকট্রনিক সিস্টেমে ফেলে হয়েছে পদ্ধতিকে। কিন্তু একপ্রকার কাগুজে ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি। কাগজের প্রিন্ট হয়ে আসা টিকিটের বারকোড চেক করে দর্শকরা প্রবেশ করতেন। যুগের ক্রমপরিবর্তনে এবার অনালাইন টিকিট কাটার ব্যবস্থাও এসে পড়েছে চিড়িয়াখানায়। সেখানেই প্রশ্ন উঠছিল। তাহলে যারা এতদিন অফলাইনে কাজ করে এসেছেন আরও সময় এগোলে এদের ভাতে টান পড়তেই পারে। সেখানেই অন্য পথে হেঁটেছে মহানগরের চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

ম্যানুয়ালি কাজ করা এমপ্লয়িদের থেকেই দু’জনকে নিয়ে এসে অনলাইন টিকিট বিক্রির নতুন দুই কাউন্টারে বসানো হয়েছে। দু’জনকেই বিগত কয়েক মাস ধরে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে এই নতুন কাজের জন্য। তারপরে মঙ্গলবার থেকে ই-কাউন্টার খোলার পরে ওই দুই কর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছে নতুন কাউন্টারে। আলিপুর চিড়িয়াখানার প্রধান আশিষকুমার সামন্ত জানিয়েছেন , “আমাদের আটটি ম্যানুয়াল টিকিট কাউন্টার রয়েছে যেখানে কাগজের টিকিট দেওয়া হয়। তবে অনলাইনে পদ্ধতি আসায় অফলাইন কর্মীদের কোনও অসুবিধা হবে না। নতুন কাউন্টারে যদি টিকিট কাটার সংখ্যা বাড়ে তাহলে অন্য কাউকে সেখানে নতুন কাউকে নিযুক্ত না করার চেষ্টাই করা হবে।” যারা এতদিন অফলাইনে কাজ করে এসেছেন তাঁদের মধ্যে থেকেই লোক নিয়ে এবং পর্যাপ্ত ট্রেনিং দিয়ে ই-কাউন্টারে বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার আলিপুর চিড়িয়াখানায় অনলাইন টিকিট বিক্রি ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল এবং পশ্চিমবঙ্গ চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সদস্য -সচিব বিনোদকুমার যাদব৷ এই বিশেষ পরিষেবা চালু হওয়ার দৌলতে এখন থেকে কাউন্টারে টিকিট কাটার পাশাপাশি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডেও টিকিট কেনার সুবিধা পাবেন চিড়িয়াখানার দর্শকরা৷ একই সঙ্গে মঙ্গলবার থেকে চালু হল ই -টিকিটও৷ এর পর থেকে দর্শকরা www.kolkatazoo.in সাইটে গিয়ে ই -টিকিট অপশনে গিয়ে চিড়িয়াখানার টিকিট অনলাইনেও কেটে নিতে পারবেন৷ আশিষ সামন্ত জানিয়েছেন, “অনালাইন মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাত দিন আগে টিকিট কাটা যাবে। ডেবিট কার্ডে টিকিট কাটলে চিড়িয়াখানার বর্তমান টিকিটের দাম ৩০ টাকাই দিতে হবে। তবে ক্রেডিট কার্ড বা অনলাইন পে-মেন্ট হলে সেক্ষেত্রে ২.৯ শতাংশ জি.এস.টি নিয়ে টিকিটের দাম দিতে হবে।” এক্ষেত্রে টিকিটের দাম হতে পারে ৩২ টাকার আশেপাশে।

প্রথম দিনেই অনলাইনে ২০-২২টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। দ্বিতীয় দিনেও ভালোই ভির বাড়ছে অনালাইনের দুই নতুন কাউন্টারে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন যথেষ্ট টেক স্যাভি। সেদিক থেকে অনালাইন টিকিট কাটায় ভির বাড়বে এতে কোনও সন্দেহ নেই। বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে যেখানে লাখ লাখ মানুষ চিড়িয়াখানায় আসেন সেখানে সবাই সুখের খোঁজ করবেন। সেদিক অনলাইন ভবিষ্যৎ হলেও অন্তত চিড়িয়াখানায় অফলাইন কর্মীদের পেটে টান পড়বে না তা বলাই যায়।