সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : একের পর এক বাংলার উৎসব পার্বণ আসছে। চলে যাচ্ছে পালিত না হয়েই। কারণ, করোনা ধাক্কা। স্বাভাবিকভাবেই যে ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বাঙালি তার সব কিছুতে টেনে আনে সেই মানুষটির জন্মদিনও কার্যত রাজ্যে উৎসবের আকার নিচ্ছে তা স্বাভাবিকভাবেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ঘরে বসে যদি গান হয়, নাচ হয়, পড়াশোনা হয়, অফিসের কাজকর্ম হয়, খবর হয়, একটা সিনেমাও তৈরি হয়ে যায় তাহলে রবীন্দ্রজয়ন্তীও এভাবে পালন করা যেতেই পারে। এমন ভাবনাটাই ভেবেছে গ্রামীণ হাওড়ার স্কুল।

গ্রামীণ হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর ব্লকের গড়ভবানীপুর পুন্ডরীকাক্ষ প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চার দেয়ালের গন্ডির মধ্যে থেকেই খুদে পড়ুয়াদের নিয়ে কবিপ্রণামের অভিনব আয়োজন করতে উদ্যোগী হয়েছে। রাত পোহালেই ‘২৫ শে বৈশাখ’। প্রত্যেক বছরই রবি ঠাকুরের আবির্ভাব দিবস উপলক্ষ্যে মেতে ওঠে বাংলার গ্রাম থেকে শহর। অনুষ্ঠান,আয়োজনে বাংলা রবি স্মরণ কবি প্রণাম সাড়ে বাঙালি। কিন্তু,করোনার জেরে হঠাৎই বদলে গেছে সেই ছবি। বন্ধ স্কুল পাঠশালা। অনাদরেই কী কাটবে বাঙালির ‘২৫শে বৈশাখ’? প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহজ উত্তর। এক্কেবারেই অনাদরে কাটবে বাঙালির পঁচিশে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, লকডাউনের সমস্ত শর্ত মেনেই বাড়িতে বসেই ভার্চুয়াল রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করবে স্কুলের পড়ুয়ারা। প্রিয়া, সায়ক, উৎসবদের মতো খুদে পড়ুয়ারা ইতিমধ্যেই শুরু করেছে প্রস্তুতি। বিদ্যালয়ের সহ-শিক্ষক তথা অন্যতম উদ্যোক্তা সন্দীপ আদক বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে থেকেই অভিভাবক-অভিভাবিকাদের ফোনের মাধ্যমে নাচ-গান-কবিতা-বক্তৃতা ভিডিও করে পাঠাচ্ছে। আমরা এডিট করছি। সংযুক্ত করা হবে ভাষ্যপাঠ দিয়ে। তারপর,আগামীকাল বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে আপলোড করা হবে।’

বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগে খুশি হয়ে এগিয়ে এসেছে অভিষেক,অনীক্ষার মতো বেশ কয়েকজন প্রাক্তনরাও। বর্তমান পড়ুয়াদের পাশাপাশি তারাও অংশ নেবে এই সাংস্কৃতিক প্রয়াসে। চতুর্থ শ্রেণীর পড়ুয়া অস্মিতা সাঁত্রার কথায়, ‘অনেকদিন স্কুলে যাইনি। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়নি। তাই মন খারাপ। হঠাৎ একদিন স্যার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানালেন। তারপরই প্রস্তুতি শুরু করে দিই।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ‘শিক্ষারত্ন’ নুরুল আমিন বলেন, ‘এই দিনটির জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা। প্রতিবছর সাড়ম্বরে আমরা বিদ্যালয়ে কবিপ্রণামের অনুষ্ঠান করি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একদিকে কবিপ্রণাম ও অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীদের একঘেঁয়েমি কাটাতে উদ্যোগী হয়েই আমরা এই আয়োজন করেছি। আমার দু’ই সহকর্মী সন্দীপ ও সৌভিকই মূলত সমগ্র বিষয়টি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে।’

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।