কলকাতা : প্রশাসন ও ব্যাংকের তরফে বারবার সচেতন করা সত্ত্বেও হুঁশ ফেরেনি অনেকের। প্রতারকরাও নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যাংকের টাকা।

এবার অনলাইনে প্রতারণার শিকার হলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী শান্তনু ভট্টাচাৰ্য। তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে খোয়া গেল ৬৪ হাজার টাকা।শিল্পী ঘটনার বিবরণ জানিয়ে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

শিল্পীর অভিযোগ, অচেনা নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। বলা হয় পেটিএম-এর অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যাবে।এখনই পেটিএম-এর কেওয়াইসি না দিলে অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে। ডাউনলোড করতে বলা হয় একটি অ্যাপও। সেখানে ১০ টাকার ট্রানজাকশন করতে বলা হয়। তারপরই ঘটে অঘটন। ধাপে ধাপে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে খোয়া যায় ৬৪ হাজার টাকা।

অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলের অফিসারেরা । পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এর নেপথ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ডের একটি গ্যাং। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে এই ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত রয়েছে।

আরও পড়ুন – BREAKING: আমবাগানের মধ্যে বিস্ফোরণ, বোমা দেখে তাজ্জব পুলিশও

ব্যাংকগুলির তরফ থেকে বারবার বলা হয়, যাতে কেউ এটিএমের পিন শেয়ার না করেন। তবে শুধু এটিএমের পিন নম্বর দিলেই যে আপনি প্রতারণার শিকার হবেন, তা কিন্তু নয়। প্রতারণার অনেক অভিনব উপায় রয়েছে। যাতে আপনার অজান্তেই আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে যেতে পারে।

পুজোর সময় একটি ওয়েবসাইট থেকে শাড়ি অর্ডার দিয়েছিলেন শুভাশিস বাবুর স্ত্রী পম্পা তালুকদার। অগাস্ট মাসে সেই শাড়ির অর্ডার দেন তিনি। nareevastra.com নামের সেই ওয়েবসাইটে ১৬ অগস্ট শাড়ি অর্ডার করার পর, ২৪ অগস্ট প্রোডাক্ট পৌঁছে যায় তাঁর বাড়িতে। জিনিস হাতে পেয়েই তবেই টাকা দেন তিনি। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল।

কিন্তু প্যাকেট খুলেই অবাক হয়ে যান এয়ারপোর্ট এলাকার বাসিন্দা পম্পা দেবী। ১০৯৯ টাকার যে শাড়ি এসেছে, তা মোটেই ওই দামের হওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ, শাড়ীটির মান মোটেই খুব একটা ভালো নয়, ছবির সঙ্গে মিলই নেই সেই শাড়ীর। সঙ্গে সঙ্গে সেটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওয়েবসাইটে দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে রিটার্ন করার কথা বলেন। সংস্থা থেকে জবাবে একটি ঠিকানা পাঠানো হয়, যেটি সুরাতের। বলা হয় ওই ঠিকানায় শাড়ীটি পাঠালেই টাকা রিটার্ন পাওয়া যাবে। সেইমত শাড়ী পাঠিয়ে দেন পম্পা দেবী। কিন্তু টাকা ফেরত পাওয়ার কোনও আশা দেখছিলেন না। বারবার মেসেজ করেও কোনও লাভ হয়নি।

টাকা ফেরত আসছে না দেখে গুগল থেকে ই-মেল অ্যাড্রেস নিয়ে মেল করেন শুভাশিস বাবু। কোনও রিপ্লাই না পেয়ে গুগল থেকে কাস্টমার কেয়ার নম্বর খুঁজে বের করে সেখানে সরাসরি ফোন করেন তিনি। ঘটনাটি গত ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের। আর এই ফোন নম্বরটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাঁদের জন্য। ফোন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাকাউন্টের সমস্ত টাকা উধাও।

সেদিন সকালে তিনি ফোন করার পরই তাঁকে বলা হয়, ‘আপনি যে অ্যাকাউন্টে টাকাটা ফেরত নেবেন, সেই অ্যাকাউন্টের শেষ চারটি সংখ্যা বলুন।’ শুভাশিস বাবু কোনও জটিল বিষয় না ভেবেই সেই সংখ্যা বলে ফেলেন। এরপর বলা হয়, ‘ওই নম্বরের সঙ্গে UPI নম্বরের যোগফলটা বলুন।’ শুভাশিসবাবু টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় হিসেব কষেই এসএমএস করে দেন সংখ্যাটা। ওই যোগফল থেকে অ্যাকাউন্ট নম্বরের চারটি ডিজিট বাদ দিলে যে UPI পিনটাই থাকে, তা যখন বুঝেছেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। মিনিট কয়েকের মধ্যেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও ২৬,৫০০ টাকা। ওই অ্যাকাউন্টে ওই পরিমাণ টাকাই ছিল।