ফাইল ছবি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : অনলাইনে মধুচক্রের প্রভাব পড়ছে সোনাগাছিতেও। এমনটাই জানাচ্ছেন যৌনকর্মী থেকে শুরু করে দুর্বার মহিলা সমিতি। যত টেকনোলোজি এগিয়েছে তার সঙ্গে রমরমিয়ে বেড়েছে অনালাইন কাজ কর্মের চাহিদা। অনলাইনের যুগে সময় করে বেশ্যালয়ে যাওয়ারও সময় নেই। অনলাইনে ‘পার্টি’ বুক করে নাও। তারপর যেমন চাইবে তেমন সুখ।

ব্যাংক থেকে পোস্ট অফিস অনলাইন ছাড়া দুনিয়া অচল। বাজারও হয়ে যায় বাড়িতে বসে। তাহলে যৌনসুখ কেন পাওয়া যাবে না ঘরে বসে। খবরের কাগজে পত্রমিতালি দেখে লুকিয়ে ফোন করার দিন এখন শেষ। সে দিন গিয়েছে যখন বেশ্যালয়ে মুখ লুকিয়ে গিয়ে যৌন তৃপ্তি মিটিয়ে নেওয়া। অত সময় নেই। একাকি জীবন, বাইরে যেতেও ভালো লাগেনা। সঙ্গী বেছে নিন ফেসবুকের বিশেষ বন্ধু পাতানোর পেজ থেকে। টাকা দিন অনলাইনে। কাজ শুরু। সহজ ব্যপার। ইন্টারনেটে এসকর্ট সার্ভিস কিংবা ভিডিও চ্যাটের অতিসহজ পদ্ধতিই এশিয়ার সবথেকে বড় যৌনপল্লীর ব্যবসায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দিনে দিনে আয় কমে যাচ্ছে। আগের থেকে অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আয় কমে গিয়েছে সোনাগাছির যৌনকর্মীদের।

প্রতিকি ছবি (ছবির সঙ্গে প্রতিবেদনের কোন সম্পর্ক নেই)

দুর্বার মহিলা সমিতির জনসংযোগ আধিকারিক, মহাশ্বেতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একটা প্রভাব তো পড়েইছে। এটা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। যৌনকর্মীর সংখ্যা প্রচুর। কাস্টমারের সংখ্যা কম। দুপুর বেলা এটা ভালো বুঝতে পারা যায়। ওই সময়টাতেই ব্যবসা শুরু হয়।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “তথাকথিত বেশ্যালয়ে গিয়ে যৌনসুখ মেটানোর যে আদি পদ্ধতি তাতে টান পড়েছে এটা বলতেই পারা যায়।” দুর্বারের সদস্য কাজল বোস বলেন, “ভালোরকম প্রভাব পড়েছে। ওই ফেসবুক, হোয়টস অ্যাপ দিয়ে বুক করিয়ে নিচ্ছে। সঙ্গে ও দিয়ে ভিডিও চ্যাটও হয়। তো ঘরে আনতে না পারলেও ফোনে কাজ মিটে যাবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসকর্ট পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এক মহিলার দাবী, “একটু যারা সফিস্টেকেশন পছন্দ করেন তারা সোনাগাছির গলিতে যেতে চান না। নিজের জায়গায় মনের মতো সুখ পাওয়া দেয় এসকর্ট সার্ভিসগুলি। তাছাড়া এদের দাবি, সোনাগাছিতে অনেক সময় পুলিশের সমস্যা থাকে। এসকর্ট সার্ভিস এতটাই গোপনীয়তা রাখে যে ওই সমস্যা বিশেষ হয় না।” তাছাড়া বেশ্যালয়ে গেলে অনেক যৌনকর্মী তাড়াহুড়ো করতে থাক এমন অভিযোগও অনেকে করেন। দিনের শেষে সুখে শান্তিতে তারা বাস করতে লাগিলেন এই গল্পটাই শুনতে চায় আম জনতা।

10 COMMENTS

Comments are closed.