নয়াদিল্লিঃ উৎসবের মরশুমে চড়ছে পেঁয়াজের দাম। এই পরিস্থিতি সোমবার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্র। রাতারাতি নির্দেশ যাতে কার্যকর করা হয় তা বলা হয়। এরপরেই বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত পেঁয়াজ রফতানি। হঠাত কেন্দ্রীয় সরকারের এহেন সিদ্ধান্তে সমস্যার মধ্যে পড়ে বাংলাদেশ সহ বেশ কয়েকটি দেশ।

আটকে যায় রফতানি উদ্দেশে স্থল বন্দরে বা জল বন্দরে পৌঁছোনো পেঁয়াজ। যদিও এই বিষয়ে কিছুটা স্বস্তি দিতে চলেছে মোদী সরকার। বিশেষ করে বাংলাদেশ সহ যে সমস্ত দেশ ভারতের পেঁয়াজের উপর নির্ভর করে তাঁদের কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলতে চলছে।

রফতানি উদ্দেশে স্থল বন্দরে বা জল বন্দরে পৌঁছোনো পেঁয়াজ অন্য দেশে পাঠনোতে ছাড় দিতে চলেছে মোদী সরকার। যার ফলে বাংলাদেশ সহ ও অন্যান্য সব দেশে পাঠানো যাবে পেঁয়াজগুলি। এমনটাই সূত্রে জানা গিয়েছে। এই বছর পেঁয়াজ উৎপাদনে বিরাট ধাক্কা খেয়েছে।

বিশেষ করে যেভাবে কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশে বৃষ্টি হয়েছে তাতে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছে। জল জমে চাষ জমিতেই নষ্ট হয়েছে বিঘের পর বিঘে জমির পেঁয়াজ। যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারে। ক্রমশ চড়া হচ্ছে পেঁয়াজের দাম। তাতে লাগাম টানতেই এই নির্দেশ জারি করে কেন্দ্র।

এরপরেই রফতানির উদ্দেশ্যে থাকা একাধিক ট্রাকে, গুদামে আটকে থাকা পেঁয়াজ পচতে শুরু করে। এমনকি, সরকারি নির্দেশের পরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দাঁড়িয়ে যায় শয়ে শয়ে ট্রাক। চারদিন পার হয়ে পচন ধরছে পেঁয়াজে। ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। আর বাংলাদেশের বাজারে শুরু হয়েছে কালোবাজারি সিন্ডিকেট দৌরাত্ম।

বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। দেশি হাইব্রিড ৯০ টাকা আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অস্থিরতা কাটাতে মিশর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী মাসের শুরুর দিকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে আমদানি করা পেঁয়াজ। দেশের সব বাজারে পেঁয়াজের কালোবাজারি রুখতে প্রশাসনিক নির্দেশে কাজ শুরু হলেও ক্রেতারা বেশি বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ কিনছেন বাংলাদেশ। তাদের আশঙ্কা আরও বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। যদিও ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে ছাড় দিতে পারে, এই খবরে কিছুটা হলেও স্বস্তি বাংলাদেশে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।