থিম্পু: আত্মনির্ভর হও। প্রতিবেশির পেঁয়াজ নির্ভরতা কমাও। দেশ জুড়ে এই নিয়ম জারি করে দিল ভুটান সরকার। প্রতিবেশি ভারত আপাতত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে। এর ফলে বাড়ছে সংকট। খুচরো বাজারে দাম বাড়তে থাকায় চিন্তিত ড্রাগনভূমি (বজ্র ড্রাগনের দেশ)।

পরিস্থিতি আঁচ করে ভারতের পেঁয়াজ ও টমেটোর উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎপাদনের নির্দেশ দিয়েছে ভুটানের কৃষি মন্ত্রক। নির্দেশে বলা হয়েছে, দেশের সর্বত্র কৃষিজ পণ্যে পর নির্ভরশীলতা কাটাতে হবে। এর জন্য দরকার সবজি ও কৃষিপণ্যে আরও বেশি চাষ।

ভুটানি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি তে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর জেরে সীমান্তের পেঁয়াজ আমদানি থমকে গিয়েছে। প্রতিবেশি দেশ নিজস্ব বাজারে পেঁয়াজের মূল্য ঠিক রাখতে এমন পদক্ষেপ।

বিবিসি জানাচ্ছে, ভারতে পেঁয়াজের দাম তিনগুণ বেড়ে যাওয়ার পর সরকার সব ধরণের পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে বন্যায় এবার গ্রীস্মকালীন ফসল মার খাওয়ার পর সেখানে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। বাজার অস্থির হয়। এর পরেই রফতানিতে লাগাম টানে সরকার।

বিবিসি রিপোর্ট আরও বলা হয়েছে, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রফতানিকারি দেশ। প্রতিবছর প্রায় ২০ লক্ষ টন পেঁয়াজ রফতানি করে। ২০১৯ এর সেপ্টেম্বর মাসেও ভারত পেঁয়াজ রফতানি তে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এর বিরাট প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে।

এসব দিক বিবেচনা করে ভুটান কৃষিমন্ত্রক পেঁয়াজের মতো অত্যাবশকীয় কৃষিজ পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে নিতে কোমর বেঁধে নামল।

থিম্পুর সংবাদপত্র কুয়েনসেল জানাচ্ছে, সম্প্রতি ভারত লাগোয়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অতি বর্ষণ হয়। দুর্যোগে কৃষি উৎপাদন মার খেয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদান প্রদান অনেক কম। ভারতের সঙ্গে বেশিরভাগ বাণিজ্য হয় ভুটানের। এরপর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে ভারত।

কৃষিমন্ত্রকের মহাপরিচালক কিনলে শেরিং জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ আসতেই নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা বীজ ও কৃষি প্রযুক্তির উপকরণ সরবরাহ করব। কৃষিমন্ত্রকের আশা, আগামী দু এক বছরের মধ্যে পেঁয়াজ সহ বিভিন্ন সবজিতে নির্ভর হবে দেশ।

তিনি বলেন, পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকি বেশি। তাই অনীহা আছে দেশের কৃষকদের। আর ভারত থেকে আমদানি হওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম পান না দেশের কৃষকরা। ভুটান কৃষিমন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারতের পেঁয়াজ সহ বিভিন্ন সবজির উপর নির্ভরশীলতা থাকায় প্রতিবেশি দেশ রফতানি বন্ধ করলে দেশের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

এটা কাটাতেই উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। ফুড কর্পোরেশন অফ ভুটান লিমিটেড জানাচ্ছে, ভারত রফতানি বন্ধ করার আগে ১৪৪.৭৯ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে দেশে।

এর মধ্যে ৩৯ মেট্রিক টন রাজধানী থিম্পুর বাজারে বিক্রির জন্য চলে যায়। ভারত রফতানি বন্ধ করায় দাম হয় উর্ধমুখী। এর পরেই দেশীয় কৃষি পণ্যে ভারতের উপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য ভুটানি নেটিজেনরা সরব হন। সোশ্যাল সাইটে লাগাতার সমালোচনার জেরে সরকার কৃষিজ পণ্যে নির্ভরশীল হওয়ার দিকে জোর দিয়েছে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।