স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পাইকারি বাজারে দাম কমার পর এবার খুচরো বাজারে দাম কমল পেঁয়াজের৷ এই খবর সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটালেও পুরোপুরি স্বস্তি দিতে পারল না৷ কারণ পুজোর মধ্যে অনেকটা দাম বেড়েছে আলুর৷ খুচরো বাজারে প্রতি কেজিতে প্রায় দুই টাকা দাম বেড়েছে। জ্যোতি আলু আগে ১৩-১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। তা এখন বেড়ে ১৫-১৬ টাকা হয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই মূল্য বৃদ্ধি সাময়িক। পুজোর সময় হিমঘর বন্ধ থাকা ও শ্রমিকরা ছুটিতে যাওয়ার কারণে বাজারে আলুর জোগান কমে যায়। এর জেরে দাম বেড়েছে। লক্ষ্মীপুজোর পর হিমঘর থেকে আলুর জোগান বাড়লেই দাম কমবে বলে মনে করছেন আলু ব্যবসায়ীরা৷ তারা জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাজারের চাহিদা মেটানের জন্য পর্যাপ্ত আলু হিমঘরে রয়েছে। ভিন রাজ্যে চাহিদা কম হওয়ায় এবার রাজ্যে আলুর দাম খুব চড়া হয়নি বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

আরও পড়ুন : পুজোতে মেট্রোর নতুন রেকর্ড, একদিনেই চড়ল ৯ লাখ যাত্রী

পুজোর আগে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় কেন্দ্রীয় সরকার রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে৷ এরপরই জোগান বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে দাম কমতে শুরু করে৷ ওই সময় পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরো বাজার পর্যন্ত দাম কমার প্রভাব পৌঁছয়নি। তবে এবার খুচরো বাজারেও পেঁয়াজের দাম কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অনেক খুচরো বাজারে ৫০ টাকা কেজি দরের আশপাশে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে এখন।

রাজ্য সরকারের সুফল বাংলার স্টলগুলিতে পেঁয়াজের বিক্রয় মূল্য এখন ৩৫ টাকা ঠিক করা হয়েছে। পুজোর আগে এখানেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা দরে। ওই সময় খুচরো বাজারে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল।

আরও পড়ুন : রাজ্যে খুন আরএসএসের সক্রিয় কর্মী, স্ত্রী-৬ বছরের শিশু

কোলে মার্কেটের আধিকারিক কমল দে জানিয়েছেন, পুজোর সময় ভিন রাজ্য থেকে আসা ৪০ কেজি পেঁয়াজের বস্তা পাইকারি বাজারে ১২০০-১৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বাজারে এক কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ টাকার আশপাশে। এই হিসেবে খুচরো বাজারে এখন পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকার কম হওয়া উচিত বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে, পেঁয়াজের রফতানির উপর ভারত নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়ায় এশিয়ার বাজারে যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়েছে৷ নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশেও পেঁয়াজের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। বাংলাদেশে কেজি পিছু পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা ছুঁয়েছে। এক সপ্তাহে শ্রীলঙ্কাতে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। চাহিদা মেটাতে মিশর এবং চীনের অতিরিক্ত পেঁয়াজের বরাত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইএফসিআইটিএ-র প্রেসিডেন্ট জি রাজেন্দ্রন।এশিয়ার পেঁয়াজের বাজারে ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান এবং চীন। কিন্তু এই দেশগুলি এখনও রফতানি বাড়ায়নি।