সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এতদিন আলুর দাম বাড়ছিল। এবার পেঁয়াজকেও না জোগান থাকার তালিকায় ফেলে দিচ্ছে খুচরো ব্যবসায়ীরা। এমনটাই জানা যাচ্ছে বাজার সূত্রে। ফলে অলক্ষ্যে বাড়ছে পেঁয়াজের দামও।

যা হওয়া উচিৎ ২০ থেকে ২২ টাকা প্রতিকিলো। সেটাই খুচরো বাজারে তিন টাকা থেকে সাত টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেউ পেঁয়াজের দাম হাঁকছে ২৫ টাকা প্রতি কিলো তো কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে ৩০ টাকা দাম হাঁকতেও ছাড়ছে না।

কেন এত দাম? কীভাবে দাম বাড়ল ? জিজ্ঞাসা করলেই মিলছে সোজা এবং চেনা জানা উত্তর। ‘দাদা মার্কেটে পেঁয়াজ কম। এমনিতেই তো বাইরে থেকে আসে। তাই……’ কোলে মার্কেট, মানিকতলা বাজার কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো উত্তর দিচ্ছে। জানাচ্ছেন, ‘ওসব পাইকারি বিক্রেতাদের চাল। পেঁয়াজ রয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়াচ্ছে খুচরো বিক্রেতারা।’

এমনিতেই দিনে দিনে বাজারে প্রায় সব জিনিসের দাম ক্রমবর্ধমান। সরকার বলার পরেও ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাব নিয়ে আলুর দাম কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বাজারে। চিন্তা বৃদ্ধি করছে অকারণ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিও।

বিভিন্ন খুচরো বাজার সূত্রে খবর পেঁয়াজের দাম কোথাও ২৫ টাকা প্রতি কেজি তো আবার কোথাও ৩০ টাকা প্রতি কেজি। অনেক জায়গায় আবার লাল পেঁয়াজ যা রাজস্থানের তা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩৫ টাকায়। তবে এই লাল পেঁয়াজের আমদানি কম। পাইকারি ব্যানসায়ীরা জানাচ্ছেন, ‘লাল পেঁয়াজের বেশি দাম মানা যায় কিন্তু সাধারণ পেঁয়াজের এমন দাম বৃদ্ধি অযাচিত।’

মঙ্গলবার কোলে মার্কেটে নাসিকের পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি ৪০ কেজিতে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, মধ্যপ্রদেশের পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি ৪০ কেজিতে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। সোমবারের তুলনায় হেরফের হয়নি বিশেষ। আর দক্ষিণ ভারত থেকে আসা পেঁয়াজ যা ম্যাড্রাসের পেঁয়াজ বা লাল পেঁয়াজ বলে পরিচিত তার দাম ছিল প্রতি ৪০ কেজির ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক সপ্তাহে ৪০ কেজিতে গড়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। তার কারণ হিসেবে তারা বলছেন রাজ্যে দফায় দফায় লকডাউন, পেট্রোল ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিহারে কিছুদিন আগে বন্যা হবে পরিবহণ ব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তা এমনও নয় যে খুচরো বাজারে ডবল দামে বিক্রি করতে হবে।

লেক মল মার্কেটের খুচরো পেঁয়াজ ব্যবসায়ী গোবিন্দ দাসেরর দাবী, ‘করোনা পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ ছিল। সীমান্ত খুলতেই অনেক পেঁয়াজ রফতানি হয়েছে সে দেশে। ফলে বাজারে মজুদ পেঁয়াজ সেখানে যাওয়ায় আমাদের কাছে মাল কম আসছে। লোক চাইছে। দিতে পারছি না।

লোকসান মেটাতে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি। ধীরেন সাউ নামে হাওড়া কদমতলা বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর যুক্তি অন্যরকম। তাঁর মতে, ‘কোনও বিয়ে, জন্মদিন, বা অন্য কোনও সামাজিক অনুষ্ঠান হচ্ছে হাতে গোনা। যে পেঁয়াজ কাজের বাড়িতে যেত তা সিজনে গেল কোথায়? সরকার অনুষ্ঠান বাড়িতে নিমন্ত্রিতের সংখ্যা বেঁধে দিয়েছে। ৫০ আর ২৫০ এর মধ্যে তফাৎটা বুঝতে হবে তো।’

খুচরো ব্যবসায়ীদের এমন যুক্তি মানতে নারাজ পাইকারি ব্যবসায়ীরা। স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এমন নানাবিধ যুক্তি খাড়া করা যেতেই পারে। কিন্তু খুচরো বাজারে খুব দাম বাড়িয়েও ২০ থেকে ২২ টাকার বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়া উচিত নয়। পেঁয়াজকেও জোগান রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ। যা হচ্ছে তা ইচ্ছাকৃত।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।