ঢাকাঃ  ভারতের বাজারে ক্রমশ বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ মানুষের। এই অবস্থায় পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রাখল ভারত। যার প্রভাব পড়ল বাংলাদেশে। আপানার বাংলাদেশের বাজারেও কোনও পেঁয়াজ রফতানি করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। যার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়বে বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদরা।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে ন্যূনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলারে বেঁধে দেয়। এক দিন পর এরপরেই বাংলাদেশের বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম অনেকটাই বেড়ে যায়। খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৬০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় ওঠে। এরপর থেকে দাম বাড়তে থাকে। ঢাকার বড় বাজারে এখন ভালোমানের দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা, দেশি কিং নামের এক ধরনের পেঁয়াজ ৭০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তিন দফা বৈঠক করেছে। সর্বশেষ বৈঠকে আমদানিকারকেরা জানিয়েছেন, মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। তবে তা দেশে পৌঁছাবে আগামী মাসে। দেশের পেঁয়াজের চাহিদা ও জোগানের কোনো সঠিক হিসাব নেই। ব্যবসায়ীদের ধারণা, প্রতি বছর চাহিদার ৬০-৭০ শতাংশ পেঁয়াজ দেশে হয়। বাকিটা আমদানি হয়। আমদানির প্রায় পুরোটুকুর উৎস ভারত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন। পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, আমদানি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯২ হাজার টন।

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের রপ্তানি বন্ধের খবর তখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। পেঁয়াজের পাইকারি দর আগের দিনের চেয়ে একটু বেশি। তার তথ্য অনুযায়ী, শ্যামবাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ পাইকারি ৬০-৬২ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫-৫৮ টাকা ও মায়ানমারের পেঁয়াজ ৫৪-৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। ভারতীয় ও মায়ানমারের পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি তিন টাকার মতো বাড়তি। তিনি বলেন, মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ এখনও দেশে পৌঁছয়নি।