টানা এক মাস ধরে পেঁয়াজের দাম ১০০-র উপরে রয়েছে। বছরের শেষ লগ্নে এসে ২০১৯-এর অন্যতম আলোচ্য বিষয় অবশ্যই পেঁয়াজের চড়া দাম। শেষ পেঁয়াজের চড়া দাম অটলবিহারীর সরকার ফেলে দিয়েছিল কিন্তু এবার সারা দেশ জুড়ে পেঁয়াজ তার পেয়াজই দেখালেও বহল তবিয়তে মদনদে মোদী সরকার। একপ্রকার অটল বলা যেতেই পারে।

২৪ নভেম্বর ২০১৯, কলকাতায় পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০০ টাকায় পৌঁছায়। শিয়ালদহ কোলে মার্কেটের পেঁয়াজ পট্টির ব্যবসায়ীরাও এখনও চিন্তায় পেঁয়াজের দাম নিয়ে। এর আগে কখনও পেঁয়াজের দাম এতটা বাড়তে দেখেনি শহরবাসী। ২৪ নভেম্বরের আগের সপ্তাহতেও প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। তারপর থেকে হইহই করে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

১০০ থেকে ক্রমে রাজ্যে দেরশোতে পৌঁছায়। পেঁয়াজের আগুন দামে রাশ টানতে মিশর থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। পাবলিক সেক্টর ট্রেডিং ফার্ম এমএমটিসিকে কেন্দ্রের তরফে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, মিশর থেকে আসার কথা ছিল ৬,০৯০ টন পেঁয়াজ। রাজ্যগুলির কাছে তা কেজিপ্রতি ৫২ থেকে ৬০ টাকা দরে জোগান দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল।

কিছুটা কমলেও কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে ১২০-এর নীচে নামছে না পেঁয়াজের দাম। এর পিছনে আবার শুল্ক দফতরের কাঁটা। শুল্ক দফতরের ঘেরাটোপে আটকে পড়ে রয়েছে পেঁয়াজ ট্রাকের মধ্যে। বৈষ্ণবনগরে’র মহদীপুর সীমান্তে ৩৫ টন পেঁয়াজ এখন পচতে বসেছে। ৯ ডিসেম্বর থেকে সেখানেই ট্রাক বন্দি হয়ে রয়েছে ৩৫ টন, মানে ৩৫০ কুইন্ট্যাল পেঁয়াজ। বাংলাদেশে রফতানি’র আগেই তাকে আটকেছে শুল্ক দফতর।

সরবরাহকারী সংস্থার কর্ণধার রেনিল টি.পি. বলছেন, ‘১৯ অক্টোবর ভারত সরকার ৭০ মেট্রিকটন পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়। সেইমতো ৩৫ মেট্রিকটন পেঁয়াজ ইতিমধ্যে বাংলাদেশে রফতানি করা হয়েছে। বাকি ৩৫ টন রফতানির সময় শুল্ক দফতর আটকে দিয়েছে।’

কেন? তাঁর আইনজীবী শমীক চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘ট্রাক বন্দী অবস্থায় পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকতে পারে। ৯ডিসেম্বর থেকে সীমান্তে আটকে পেঁয়াজের ট্রাক। চার বা পাঁচ দিন-এর মধ্যে পেঁয়াজ বার করতে না পারলে সবটাই নষ্ট হয়ে যাবে।” তিনি আরও জানাচ্ছেন, ‘দেশে পেঁয়াজের আকালের সময়ে ভারত সরকার সমস্ত রফতানিকারক সংস্থার কাছে অনুরোধ রাখে বিদেশে পেঁয়াজ রফতানি না করার জন্য। ৯ ডিসেম্বর শুল্ক দফতরের কাছে সেই নির্দেশিকা এসে পৌঁছোয়। তাই পেঁয়াজ ট্রাক আটকে দেওয়া।’

অপরদিকে পেঁয়াজের এতো দাম শুনেও কমানোর চেষ্টা না করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিদের বিভিন্ন উক্তি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অন্যতম অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমণের পেঁয়াজ না খাওয়ার গপ্পো।