কলকাতা: ভরাবর্ষার মরশুমে অগ্নিমূল্য সবজির বাজার৷ একলাফে পেঁয়াজের দাম চড়েছে বহুগুণ৷ খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দর এখন কেজি প্রতি ৫০ টাকাও ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ কয়েকদিন আগেও খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দর ছিল ৩০ টাকা। রাজ্যে বন্যার ভ্রুকুটি দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেয়াজের কালোবাজারি শুরু হয়েছে৷ যদিও, পেঁয়াজের জোগানের জন্য পুরোপুরি ভিন রাজ্যের উপর নির্ভরশীল হতে হয় বাংলাকে৷ কিন্তু, ভিন্ রাজ্যের উপর নির্ভরতা থাকলেও হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে বেশ চিন্তিত নবান্নের কর্তারা৷

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২২ আগস্ট কৃষিপণ্যের দাম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে টাস্ক ফোর্সের বৈঠক ডেকেছেন৷ সেখানে পেঁয়াজ নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অতীতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পর সরকারি উদ্যোগে কিছু কম দামে তা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এবারও তা করা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

এবার রাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ পিয়াজ উৎপাদন হয়েছিল৷ প্রায় পাঁচ লক্ষ টন। কিন্তু সেই পেঁয়াজ জুন মাসের মধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে। ওই সময় রাজ্যবাসী ১০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনেছেন। রাজ্যে সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলে আরও কিছুদিন পিয়াজ রাখা যেত। বাঁশ, কঞ্চি, খড় প্রভৃতি দিয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জায়গা তৈরির জন্য সরকার ৫০ হাজার টাকা করে ভরতুকি দেয় কৃষকদের। কিন্তু তা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সংখ্যক পেঁয়াজ সংরক্ষণের জায়গা রাজ্যে তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

এরাজ্যে পেঁয়াজের মূলত মহারাষ্ট্র থেকে আসে৷ নাসিক থেকে বেশিরভাগ পেঁয়াজ আসছে। কিছুটা পেঁয়াজ আসছে অন্ধ্র থেকে। নাসিকের পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। নাসিক থেকে ৪০ কেজির পেঁয়াজের বস্তা ৯০০ টাকা দরে এসেছে। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম প্রায় ২৩ টাকা। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় পরিবহণ খরচ পড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা। পাইকারি বাজারে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২০০ টাকার আশপাশে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়েছে প্রায় ৩০ টাকা। অন্ধ্রের পেঁয়াজের ৪০ কেজির বস্তার দাম ছিল ১৩০০ টাকা।