ঢাকা: স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতারা। সেঞ্চুরি পার করে বেশি বাড়তে পারেনি পেঁয়াজ মূল্য। তার আগেই সীমান্তে আটকে থাকা ট্রাক ট্রাক পেঁয়াজ ফের বাংলাদেশে রফতানি শুরু করেছে ভারত। পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে তিনটি স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ১২০০ টন পেঁয়াজ এসেছে।

তবে এতদিন আটকে থাকায় এই পেঁয়াজের মান ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে বলে জানান আমদানিকারকরা। গত সোমবার হঠাৎ বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছিল ভারত।

এতে এক দিনেই পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়। আর পাইকারিতে ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ টাকায় পৌঁছে। সংকটের আশঙ্কায় বাড়তি পেঁয়াজ কেনার হিড়িক পড়ে। ভারতে অভ্যন্তরীণ সংকট শুরু হওয়ার পরেই চটজলদি রফতানি বন্ধ করা হয়েছিল প্রতিবেশি দেশগুলিতে।

বিবিসি জানাচ্ছে, বিশ্বের সর্বাধিক পেঁয়াজ রফতানি করে ভারত। গত বছরেও পেঁয়াজ মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে রফতানি বন্ধ করেছিল ভারত। এর জেরে বাংলাদেশের বাজারে বিরাট অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতির সামাল দিতে মিশর, পাকিস্তান থেকে আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ।

এবারেও ভারতের রফতানি বন্ধ হতেই তুরস্ক ও মিশরের পেঁয়াজ আমদানির পথ নেয় বাংলাদেশ। ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামে ঢুকেছে মায়ানমারের পেঁয়াজ চালান। পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নয়াদিল্লি কে অনুরোধ করা হয় সীমান্তে আটকে থাকা চালান সহ পেঁয়াজের রফতানির জন্য।

অন্যদিকে ভারতের সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্রের কৃষকদের অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভার নেতৃত্ব কৃষকদের ক্ষোভ সরকারের কাছে তুলে ধরেন। তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এর পর বাংলাদেশ সীমান্তে আটকে পড়া পেঁয়াজ ফের রফতানির নির্দেশ দেয় প্রতিবেশি দেশের সরকার। ফের ভারতীয় পেঁয়াজ আসার খবরে ঢাকা সহ দেশের সব বাজারের ঝাঁঝ কমেছে।

ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙ্গা থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা, ওপারের মালদহ জেলার মহদিপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ, দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি থেকে এপারের দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসছে।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আমদানি পর্যায়ে থাকা পেঁয়াজের মধ্যে মোট ২৫ হাজার টন বাংলাদেশে আসবে। তবে ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি নয়াদিল্লি।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।