সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ঠিক ভাবে বাবা কথাটা এখনও ঠিক ভাবে বলতে শেখেনি একরত্তি মেয়েটা। সবে হাঁটতে শিখেছে। একবার করে বাবার ছবির সামনে যাচ্ছে। দেখে ফিরে আসছে। জানেও না বাবা আর বাড়ি ফিরবে না। বাবা শব্দটা আর কোনওদিন শেখাও হবে না। মাত্র দেড় বছর বয়সেই জম্মুর কাঠুয়ার পাক হানায় চিরদিনের মতো শেষ মেয়ে বন্যার সঙ্গে শহিদ বিএসএফ জওয়ান বিনয় প্রসাদের সম্পর্ক।

‘বাবা’ ডাকতে শেখার আগেই একরত্তি মেয়ের সামনে কফিন বন্দি দেহ

‘বাবা’ ডাকতে শেখার আগেই একরত্তি মেয়ের সামনে কফিন বন্দি দেহবিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন https://bit.ly/2EdI7sP

Kolkata24x7 यांनी वर पोस्ट केले शनिवार, १६ फेब्रुवारी, २०१९

বছর তিনেক আগে বিয়ে করেছিলেন হাওড়া শালকিয়া ডবসন রোডের বাসিন্দা শহিদ জওয়ান বিনয় প্রসাদ। সুখের সংসারে বছর দেড়েক আগে এসেছিল মেয়ে বন্যা। মেয়েকে দেখতে এই বছর দেড়েকে খুব বেশীবার আসা হয়নি। কিন্তু যোগাযোগ থাকত সোশ্যাল মাধ্যমে। বাবা কথাটা সবে আধো আধো বলছিল ছোট্ট মেয়েটা। মেয়ের আদরের এই ডাকটা শোনার জন্যই তো অপেক্ষা করে থাকে পৃথিবীর প্রত্যেকটি পিতা। কিন্তু সে আদরের আধো আধো ডাকটা অর্ধেকই শোনা হয়েই থেকে গিয়েছে জওয়ানের। একটা স্নাইপারের গুলি। আর তাতেই সব শেষ।

 

ডবসন রোডের আবাসনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভরতি শহীদ জওয়ানের ছবি। বিনয়ের দাদা বলছিলেন, “আমার সঙ্গে মাঝে মাঝে যখন ঘুরতে যায় ও তখন হাঁ করে তাকিয়ে থাকে ওই ভাইয়ের ছবি দেওয়া পোষ্টারগুলোর দিকে। জানি না কি ভাবে বা ওর মনের মধ্যে কি চলছে। বাবার সঙ্গে প্রচুর সময় কাটেনি তাই বাবা যে অনেকদিন আসেনি বা এই বিষয়টাও ওঁর কাছে আবছায়া। আর ভাবুন না দেড় বছরের মেয়ে। কি বোঝে ও।” ভাইঝিকে কোলেয

নিয়েই কথাগুলো বলছিলেন দাদা বিকাশ। কথা বলতে বলতে গলা ভারী হয়ে আসছিল। বন্যা তখন জ্যাঠার কোলে আপন মনে খেলায় ব্যাস্ত। জানে না ঠিক এক মাস আগে ১৫ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে তিনটের সেই ফোন কলটা বাবার কোলের আদরের স্পর্শটা ওর জীবন থেকে চিরদিনের মতো চলে গিয়েছে।

শহিদের দেহ যেদিন কফিন বন্দি হয়ে বাড়িতে এসেছিল সেদিন বাড়ি জুড়ে কান্নার রোল। আর রাস্তায় থিক থিক করছে মানুষের ভিড়। তারা সবাই কি সব অবোধ্য শব্দ বলে যাচ্ছে। কিচ্ছু বোঝেনি একরত্তি মেয়েটা। কিছটা ভয়ে কিছুটা অবাক হয়ে লুকিয়ে গিয়েছিল মায়ের কোলে।

বছর কুড়ি পর…… বন্যার মনে হয়তো ভাসবে সেই গানটা , ‘বাবা , কত দিন কত দিন দেখিনা তোমায়!’