স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: দলছুট হাতির হানায় মৃত্যু হল এক যুবকের। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে, বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির লটিয়াবনী গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের। এদিকে এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম শ্রীকান্ত লোহার (৩৫)। তাঁর বাড়ি গঙ্গাজলঘাটির লটিয়াবনী গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গল লাগোয়া রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে রবিবার রাতে একটি দলছুট হাতি ঢুকে পড়ে। গ্রামের কয়েক জন যুবক হাতিটিকে তাড়া করে। পরে দলছুট ওই হাতিটি শ্রীকান্ত লোহার নামের ওই যুবককে পিছন থেকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে ঘোরাতে থাকে। পরে পা দিয়ে পিষে ফেলে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।

এদিকে, হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনা চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। পরে ঘটনাস্থলে গঙ্গাজলঘাটি থানার পুলিশ গেলে তাদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এলাকার মানুষজন। উত্তেজিত জনতাকে বোঝানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পরে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এদিকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বনদফতরের পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারকে সরকারি নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও‘দলমার দামাল’দের হানা অব্যাহত ছিল বাঁকুড়ায়। চলতি মাসের শুরুতে ছ’টি শাবক সহ তিরিশটি হাতির একটি দল ব্যাপক তাণ্ডব চালায় বিষ্ণুপুরের নতুনগ্রাম এলাকায়। এই ঘটনার পর থেকেই যথেষ্ট আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
সেদিনের হাতির তান্ডবে বিষ্ণুপুরের বাসুদেবপুর বিটের নতুনগ্রামে প্রায় ৪৫ বিঘা জমির শসা, মটরশুটি, বেগুন, টম্যাটো সহ অন্যান্য মরশুমী সবজি চাষ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এদিকে বনদফতরের উদাসীনতায় দিনের পর দিন এভাবে এলাকায় হাতির আক্রমণ চলছে বলে দাবি জানান স্থানীয় গ্রামবাসীরা৷

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন এই এলাকার জঙ্গলে হাতিগুলি থাকলেও বনদফতর হাতি তাড়ানোর কোনও ব্যবস্থা করেনি । এরজেরে বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয় এলাকার লোকজনকে৷ প্রতিনিয়ত এই ভাবে হাতির হানায় জীবনহানির ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে এদিন প্রশ্ন তোলেন গ্রামবাসীরা৷