স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: পাচারের সময় হাতেনাতে বস্তা ভরতি ৩০০ টি কচ্ছপ উদ্ধার করল দিঘা থানার পুলিশ৷ পাশাপাশি এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ অভিযুক্তের নাম দুর্গাশংকর দাস৷ কাঁথি থানার সাতমাইল এলাকার বাসিন্দা সে৷ উদ্ধারের পর কচ্ছপ গুলিকে বনদফতরের হাতে তুলে দেয় পুলিশ৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে থেকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার সকালে দিঘা বর্ডার সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করে জীবন্ত কচ্ছপগুলি৷ অভিযুক্ত দুর্গাশংকর দাস উড়িষ্যা থেকে এদেশে পাচার করছিল কচ্ছপগুলি৷ অনেক দিন ধরেই এই পাচার চক্র কচ্ছপ পাচার করত৷ অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল এই পাচার চক্র৷

আরও পড়ুন: ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় মার মৌলানাকে

এই র‍্যাকেটে দুর্গাশংকর ছাড়া আর কে কে যুক্ত রয়েছে৷ কচ্ছপগুলি কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছিল সে বিষয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়৷ আটক হওয়া কচ্ছপগুলিকে শংকরপুর প্রোজক্টে ছাড়া হবে বলে বনদফতর সূত্রে জানানো হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, এর আগে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে ১০১ কেজি কচ্ছপের হাড় উদ্ধার করেছিল বিএসএফ৷ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতারও করেছিল বিএসএফ৷ ধৃতদের জেরা করে চক্রের অন্যদের হদিশ পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা৷ উদ্ধার হওয়া ১০১ কেজি কচ্ছপের হাড়ের দাম কয়েক লক্ষ টাকা৷ এগুলো বাংলাদেশে পাচার করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল বলে ধৃতরা জেরার সময় স্বীকার করেছিল৷

তদন্তকারীদের মতে, বাংলাদেশে কচ্ছপের হাড়ের প্রচুর চাহিদা৷ হাড়ের গুঁড়ো দিয়ে বাংলাদেশে তৈরি হয় এক ধরনের সিরাপ। যা যৌন উত্তেজনা বাড়ানোর কাজে লাগে৷ তাই ওই কচ্ছপের হাড়গুলি বাংলাদেশে পাচার করছিল৷

আরও পড়ুন: বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার দুষ্কৃতী

গোপন সূত্রে বিএসএফের গোয়েন্দা শাখার কাছে খবর আসে যে বেশ কয়েকজন পাচারকারী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কচ্ছপের হাড় পাচার করতে এসেছে৷ এরপরই মালদহর বৈষ্ণবনগর এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে টোলপ্লাজার কাছে অভিযান চালায় জওয়ানেরা। ঘটনাস্থল থেকে তিন পাচারকারীকে আটক করে বিএসএফ৷ উদ্ধার করে প্রায় ৬০কেজি কচ্ছপের হাড়৷

পরে ধৃতদের স্থানীয় থানার হাতে তুলে দেয় পুলিশ৷ পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কালিয়াচকের শশানি এলাকায় বুদ্ধু মিয়া নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালায় তদন্তকারীরা। সেখান থেকে উদ্ধার হয় আরও ৪১ কেজি কচ্ছপের হাড়। গোটা অভিযানে বিএসএফের সঙ্গে ছিল বন দফতর।

আরও পড়ুন: কিমের বৈঠকে পাওয়া উপহার খুলতে ভয় পাচ্ছেন সাংবাদিকরা