নয়াদিল্লি: হায়দরাবাদে তরুণীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আঁতকে উঠেছিল গোটা দেশ। শুক্রবার ভোরে অভিযুক্তদের ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হলে তারা পালাবার চেষ্টা করে। তখনই সেই অভিশপ্ত হাইওয়েতেই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়ে চার অভিযুক্তের। এই চার অভিযুক্তের মৃত্যু হলেও দেশের বহু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা এখনও কোনও সাজা পায়নি বলে দাবি উঠেছে।

আর এই দেশ জুড়ে মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের ঘটনার প্রতিবাদে আজ সরগরম হয়ে উঠেছিল লোকসভা। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি জানান, উন্নাও কাণ্ডে ধর্ষিতার দেহ ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। দেশ জুড়ে এসব কী হচ্ছে সেই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
লোকসভায় দাঁড়িয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, এক হাতে রাম মন্দির তৈরি করা হচ্ছে, আর অন্য হাতে মা সীতা-কে আগুনে জ্বালানো হচ্ছে। কীভাবে অপরাধীরা এত সাহসী হয়ে উঠেছে, সে প্রশ্নও করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ভোরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় উন্নাও কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণীর গায়ে। ওই তরুণী যখন বৃহস্পতিবার কোর্টে যাচ্ছিলেন, সেইসময় তাঁর রাস্তা আটকে দাঁড়ায় অভিযুক্তরা। গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় তরুণীর গায়ে। তরুণীর চিৎকারে ছুটে আসেন এলাকাবাসী। গায়ে আগুন নিয়েই ১ কিলোমিটার রাস্তা দৌড়ে যায় ওই তরুণী। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তরুণীর দেহের ৯০% ই পুড়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, মার্চ মাসে ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। উত্তরপ্রদেশের উন্নাও-তে ঘটেছিল এই ঘটনা। তা নিয়ে ঝড় উঠেছিল সারা দেশে। ধর্ষিতা হওয়ার পরে আরও শক্তি নিয়ে আদালতের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন নির্যাতিতা।

সেই আদালতে যেতে গিয়েই বৃহস্পতিবার ফের আক্রমণের শিকার হলেন তরুণী। জানা গিয়েছে অল্প কয়েক দিন আগে জামিনে ছাড়া পায় অভিযুক্তরা। ভোর চারটের সময়ে মা-বাবার সঙ্গে রায় বরেলি যাচ্ছিলেন ওই যুবতী।

শুধু যে উন্নাও তাই নয়। দেশজুড়ে ঘটে চলেছে একের পর এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। বারে বারে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন নারী সমাজ। হায়দরাবাদ থেকে ঝাড়খণ্ড, মালদহ থেকে কালীঘাট সব জায়গা থেকেই খবর এসেছে ধর্ষণের। কীভাবে এই ভয়ঙ্করতম অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে তারই উত্তর খুজছে দেশবাসী।