স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ফের উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগণার ভাটপাড়া৷ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় ব্যাপক বোমাবাজি৷ চলে গুলি৷ ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দুই ব্যক্তির৷ গুরুতর জখম হয় চার৷ সকাল থেকে ভাটপাড়ায় এই রণক্ষেত্র চেহারা ঘিরে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক৷ ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহীনি এবং কমব্যাট ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে৷

জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তিদের নাম রামবাবু সাউ এবং সন্তোষ সাউ৷ বৃহস্পতিবার ভাটপাড়ায় নতুন থানা উদ্বোধনের কথা আছে৷ তার আগেই সকাল থেকে শুরু হয় ব্যাপক বোমাবাজি৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শূন্যে ১০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে পুলিশ৷ তবে পুলিশ নাকি দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্য়ু হয়েছে ওই দুই ব্যক্তির তা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি৷

ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে৷ গোটা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ ঘটনার পরই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে এলাকা৷ বন্ধ হয়ে গিয়েছে সমস্ত দোকানপাট৷ বহিরাগত দুষ্কৃতীরা এই ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করছে এলাকাবাসী৷ তাঁদের দাবি, পুলিশের গাফিলতির কারণে একের পর এক বোমাবাজির ঘটনা ঘটে চলেছে৷

পড়ুন: ভয়াবহ: উষশীর পর এবার গুন্ডাবাহিনীর হাতে আক্রান্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ভাটপাড়ায় হিংসা অব্যাহত৷ একাধিকবার বোমাবাজির ঘটনায় বার বার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে ভাটপাড়া৷ তাতেও কোনও হেলদোল নেই প্রশাসনের৷ এমনটাই দাবি করছে সমগ্র ভাটপাড়াবাসী৷ সকাল দুপুর বা রাত কখনোই বাদ পড়ছে না বোমাবাজির সময় থেকে৷

সোমবার দুপুরে সোমবার দুপুরে হঠাৎই একটি বাড়ির উঁচু ছাদ থেকে বোমাবাজির ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে জখম হন এক রিক্সা চালক এবং এক পথচারী। জখমদের নাম মনোজ সাউ (৪৮) এবং রাধারানী দেবী (৫০)।

ঘটনার সময় শান্ত কাঁকিনাড়া বাজার এলাকায় নিজের রিক্সার উপরে বসে ছিলেন মনোজ সাউ। রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাড়ি যাচ্ছিলেন রাধারানী দেবী। হঠাৎই সেখানে মুড়িমুড়কির মত বোমা পড়তে শুরু করে। ওই বোমার আঘাতে মারাত্মক জখম জখম হন দুই জন।

এরপর বুধবার রাতে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা। সেই হামলার ছবি ধরা পড়ে রাস্তায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ফুটেজ সংগ্রহ করে তা জমা দেয়ে জগদ্দল থানার পুলিশকে।