সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: লকডাউনের জেরে ইংল্যান্ডে আটকে দেশের প্রায় ৩০০ ভারতীয়। তাদের হয়ে আর্তি জানাচ্ছেন এক বাঙালি যুবক। আর্জি বিদেশে থাকা ওই ভারতীয়রা নিদেনপক্ষে যেন কিছু অর্থ এবং খাবার পায়। অভিযোগ, অদ্ভুত দেশ ইংল্যান্ড। কানে কোনও নিচ্ছে না সে দেশের সরকার। আর কিছুদিন পর অনাহারে দিন কাটাতে হবে তাদের।

এও যেন এক সংগ্রাম। ৩০০ ভারতীয় লড়াই করছেন জীবন নিয়ে। জোড়া ফলার বিরুদ্ধে। একদিকে যেমন রয়েছে করোনার ইংল্যান্ড জুড়ে দাপাদাপি। তেমনই অপরদিকে রয়েছে ইংল্যান্ডের সরকার। যারা এখনও করোনা নিয়ে উদাসীন। অভিযোগ লোকডাউন তো অনেক দেরীতে হয়েইছে। সঙ্গে সে দেশের সরকার মহা বিপদে ফেলে দিয়েছে ভারত থেকে সে দেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া প্রায় শ’তিনেক ভারতীয়দের। টাকা থেকে খাবার তাদের কাছে ক্রমশ কমে আসছে সঞ্চয়। তাই তারা শঙ্কিত।

আশঙ্কা, করোনায় না হোক, না খেতে পেয়ে মারা যেতে পারে তারা। এতগুলো ছাত্রের কোনওরকম দায়িত্ব নিতে চাইছে না ইংরেজ সরকার। সাহায্যের হাত না পেয়ে ৩০০ জনের প্রতিনিধি হয়ে পথ খোঁজার দায়িত্ব নিয়ে নেমে পড়েছেন এক বাঙালি যুবক যিনি নিজেও সে শেষে বন্দি। দেবাঞ্জন মন্ডল নামে ওই পিএইচডি’র ছাত্র আদতে হাওড়ার মাকড়দহের বাসিন্দা।

তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। দেবাঞ্জন জানিয়েছেন, ‘আমার নিজের কাছেও আর ২০ পাউন্ড পরে রয়েছে। খাবারের স্টক কমে আসছে। ইংল্যান্ড সরকারকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। শেষে মধ্যপ্রদেশের সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের সঙ্গে অনেক কষ্টে যোগাযোগ করা গিয়েছিল। তিনি নিজে টুইট করেছিলেন আমাদের বিষয়ে। দুর্ভাগ্যের বিষয় এরপর ভারতীয় সরকারের থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া আমরা পাইনি’।

একইসঙ্গে দেবাঞ্জন জানাচ্ছেন, ‘তারপর তো ভারতেও লকডাউন হয়ে গেল। ইরান থেকে দেখলাম কতজনকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। আমাদের কথা জানানোর পরেও কোনও লাভ হল না।’ অন্তত তাদের জন্য খাবার এবং অর্থের যোগান চাইছেন এই পড়ুয়া।

তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা যেহেতু এখানে পিএইচডি করছি তাই আমাদের পড়াশোনার খরচ অর্ধেক। বাকিটা আমরা অন্য কাজ করে চালিয়ে নি। কিন্তু এখন তো সব কাজ বন্ধ। উপার্জন নেই। আর যারা এখানে আসে সবার পারিবারিক অবস্থাও অতটাও স্বচ্ছল নয় যে দিনের পর দিন ইংল্যান্ডে থাকা ছেলে মেয়েদের খরচ ভারত থেকে চালিয়ে দেবে। এখন তো তাহলে সরকারেরই উচিৎ ছিল এগিয়ে আসা। যেমন করেছে চিন।