স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি : ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতে গিয়ে পুলিশ হেফাজতে গেল বিদ্যুত বন্টন দফতরের কর্মী। সোমবার মহম্মদবাজারে শেখ রানা ও শাহানাজ চৌধুরী নামে দু জনকে টাকা সমেত হাতে নাতে ধরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয় তৃণমূল কর্মীরা।

তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তাপস সিনহা জানান, কিছু লোক সরকারের বদনাম করছে। বিনা কারনে বিদ্যুত চুরির অভিযোগ দিয়ে মানুষকে হয়রান করছে। যদিও বিদ্যুত দফতরের জেনারেল ম্যানেজার দয়াময় শ্যাম বলেন,কোথাও কোনও বিদ্যুত কর্মী সরাসরি হাতে টাকা নেন না। গ্রাহকদের সন্দেহ হলেই দফতরে এসে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছেন তিনি।

ধান ওঠার সময় বকেয়া বিদ্যুত বিল আদায়ে সঙ্গে নতুন সংযোগের জন্য বিদ্যুত বন্টন দফতর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামে গ্রামে বেশ কিছু কর্মী মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মহম্মদবাজার এলাকার বাতাসপুর গ্রামের রাজকুমার মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে মিটার দেখে তাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়। রাজকুমারবাবু জানান, তাকে জানান হয় বাড়ির মিটারে চুরি ধরা পড়েছে। শেষে দশ হাজার টাকায় রফা হয়। কিন্তু পেশায় দিনমজুর রাজকুমার সে টাকাও দিতে পারবেন না বলে জানান। তখন তাকে গ্রেফতার সঙ্গে জেল খাটানোর হুমকি দেওয়া হয়।

রাজকুমারের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে গত সপ্তাহে দুপুরে বাড়িতে রাজকুমার না থাকার সময় দু জন তাদের বাড়িতে আসে। বিদ্যুত দফতরের কর্মী পরিচয় দিয়ে মিটার দেখতে চায়। বাড়িতে সে সময় মেয়েরা থাকায় তারাও কিছু বুঝতে পারেনি। তারপরেই ফোনে রাজকুমারকে জরিমানার কথা জানান হয়।শেষে ছ’হাজার টাকার জরিমানা দেওয়ার রফা হয়।

আরও পড়ুন : অভিজাত এলাকায় দেহব্যবসা, হাতেনাতে ধরা পড়ল ৬

এদিকে তিনি বিদ্যুতচুরি করেননি, অথচ তাকে কেন হেনস্থা করা হচ্ছে, সে নিয়ে তিনি তৃণমুল পার্টি অফিসে অভিযোগ করেন। ব্লক সভাপতি তাপস সিনহা জানান, বিদ্যুত দফতরের নাম নিয়ে এমন ভুয়ো কর্মীর পরিচয় দিয়ে টাকা আদায় চলছে। তা ধরতেই একটি দল গঠন করি।

সোমবার তারা মহম্মদবাজার বাসস্ট্যান্ডে সাদা পোশাকে অপেক্ষা করছিল। এদিকে প্রতিশ্রুতি মত, রাজকুমার ছ’হাজার টাকা নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে শাহানাজ চৌধুরীর হাতে টাকা তুলে দিতেই তৃণমূল কর্মীরা তাকে ধরে ফেলে। পার্টি অফিসে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান হেরুকা গ্রামের শেখ রানা তাকে টাকাটা শুধু নিতে বলেছিল। এর বেশি কিছু জানেন না।

রানাকে ডাকা হলে তিনি নিজেকে চুক্তিভিত্তিক সুপার ভাইজার হিসাবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, ঘুষ হিসাবে তিনি রাজকুমারের কাছে টাকা নিতে চেয়েছিলেন। দু জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দয়াময় শ্যাম জানান, তাদের কর্মীদের কাছে পরিচয়পত্র থাকে। তাছাড়া বিদ্যুত দফতরের কাউন্টার বা অন লাইনে ছাড়া কোনভাবেই কারও হাতে যেন টাকা না দেন গ্রাহকরা।