তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: পোলট্রি ফার্ম থেকে স্বল্প মূল্যে মরা মুরগী কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে হাতে নাতে ধরে ফেললেন স্থানীয় মানুষ। ঘটনাটি বাঁকুড়া সদর থানা এলাকার ধাদকা গ্রামে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোন পোলট্রি ফার্মে মারা যাওয়া মুরগী বিক্রি না করে মাটিতে পুঁতে ফেলাই নিয়ম। কিন্তু ধাদকা গ্রামের ফার্ম কর্তৃপক্ষ তা না করে অত্যন্ত কম দামে তা বিক্রি করে দেন। যদিও এই ঘটনাটি বহুদিন ধরে চলে আসছিল৷ এর আগে ক্রেতা গৌতম গরাই, বিক্রেতা, ওই পোলট্রি ফার্মের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী জগন্নাথ পোদ্দাইকে আটক করেছিল।

বুধবার ফের এই ঘটনা ঘটলে এক ব্যক্তিকে তারা হাতে নাতে ধরে ফেলেন ও পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে।

গ্রামবাসী গণেশ চৌধুরী, উত্তম ঘোষরা বলেন, ওই ফার্মের কর্মচারী এক একটি মরা মুরগী পঞ্চাশ টাকা দরে একজনকে বিক্রি করছিলেন। সেই অবস্থায় গ্রামের ছেলেরা তাদের ধরে ফেলে। এই ঘটনার পর অবিলম্বে এই পোলট্রি ফার্ম বন্ধের দাবিও উঠতে শুরু করেছে। তাদের আরও দাবি, এই পোলট্রি ফার্মটি এলাকার সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করছে।

ধৃত ক্রেতা গৌতম গরাই ওই মরা মুরগী কিনে তা রান্না করে বেলিয়াতোড়-নতুন বাজারে বিক্রি করেন বলে স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে এই কাজ তিনি গত এক বছর ধরে করছেন বলে জানান। যদিও ফার্মের কর্মচারী জগন্নাথ পোদ্দাই মরা মুরগী বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ফার্ম এলাকা সম্পূর্ণ ঘেরা নেই। মরা মুরগী তারা নির্দিষ্ট চৌবাচ্চায় ফেলে দেন। সেখান থেকে কেউ সংগ্রহ করলে তাদের করার কিছুই নেই বলে তিনি দাবি করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আটক দু’জনকে বাঁকুড়া সদর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছে৷ একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷