হাওড়া: কাজের টোপ দিয়ে ঘরে ডেকে এনে আটকে রেখে এক মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ। সম্মান বাঁচাতে দোতলা থেকে নিচে ঝাঁপ মহিলার। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা মহিলাকে ঘরে হাত পা বেঁধে আটকে রেখে তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন করে ধৃতেরা। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার বালির নিশ্চিন্দায়।

জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে এক যুবক ও তার নাবালক শ্যালকের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, মহিলাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঘরের দরজায় তালাচাবি মেরে ওই যুবক বাইরে বেরিয়ে যায়। কোনওভাবে বাঁধন খুলে দোতলা ঘরের গ্রিলহীন জানলা দিয়ে নিচে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে গুরুতর জখম হন ওই মহিলা।

অভিযোগ, বেলুড় চাঁদমারি নেতাজিনগর এলাকায় একটি বাড়ির দোতলার ভাড়া ঘরে ওই মহিলাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন পেশায় মার্বেল সেটিং মিস্ত্রি সুবীর মাইতি নামের ওই যুবক। তারই সহকারী হিসেবে কাজ করতেন আদিসপ্তগ্রামের বাসিন্দা ওই মহিলা। তবে, ওই ঘরে কি উদ্দেশ্য ওই তাকে ডেকে নিয়ে এসে হাত পা বেঁধে আটকে রাখা হয়েছিল তা নিয়েই তৈরি হয়েছে রহস্য। মহিলাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে যুবকের বিরুদ্ধে।

এদিকে নির্যাতিতা মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সোমবার রাতেই গ্রেফতার করে অভিযুক্ত যুবক ও তার এক আত্মীয়কে। স্থানীয় সূত্রের খবর, গত দু’বছর ধরে স্থানীয় একটি দোতলা বাড়ির উপরের তলায় একটি ঘর নিয়ে ভাড়া থাকত অভিযুক্ত সুবীর। তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে কিছুদিন আগে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেয় সে। এরপর সোমবার বাড়ির মালকিন ও তাঁর ছেলে বৌমা বাড়িতে না থাকার সময় ওই মহিলাকে ডেকে পাঠায় সুবীর। এরপর মহিলার উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর নাগাদ ওই মহিলাকে বাড়ির পাশের গলিতে আছড়ে পড়ার শব্দ পান অনেকেই। এরপর কোনওরকমে গলি থেকে উঠে এসে রাস্তায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করেন মহিলা। তা শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই টোটো ডেকে যখম মহিলাকে বেলুড় স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে তাকে চুঁচুড়ায় স্থানান্তরিত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে খবর দেওয়া হয় নিশ্চিন্দা থানায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশ আধিকারিকরা। পরে ওই মহিলার পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়।

এদিকে, নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এদিনই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে। তার নাবালক আত্মীয়কেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ওই মহিলাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের মঙ্গলবার হাওড়া জেলা আদালতে নিয়ে আসা হলে ধৃত সুবীরকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। অপর অভিযুক্ত নাবালক হওয়ায় তাকে জুভানাইল কোর্টে পাঠানো হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা ছাড়াও খুনের চেষ্টা, মহিলার সন্মানহানি সহ একাধিক মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযোগ, সোমবার রাতে সুবীর এবং তার ১৫ বছরের শালা ওই মহিলার হাত পা বেঁধে মারধর করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। শুধু তাই নয় নির্যাতিতা ওই মহিলাকে খুনের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে ধৃতদের বিরুদ্ধে। এরপর অভিযুক্তরা তাঁকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় ওই ঘরে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। অভিযুক্তদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওই মহিলা কোনওরকমে বাঁধন খুলে দোতলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

Tree-bute: রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও