স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: আফিমের মাদক আঠা পাচার করার সময় ভিন রাজ্যের একজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক কেজি আফিমের আঠা। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের মোথাবাড়ি থানা এলাকায়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম মহন্মদ কামাল। বাড়ি বিহারের ঝাড়খন্ডের রাধানগর গ্রামে। ধৃত ব্যাক্তি আফিমের আঠা গুলি কালিয়াচক এলাকা থেকে সংগ্রহ করে ভিন রাজ্যে পাচার করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। সেই সময় মোথাবাড়ি থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মোথাবাড়ি কালিয়াচক রাজ্য সড়কে অভিযান চালায়। ধৃতকে সন্দেহ ভাজন ভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাকে আটক করে পুলিশ। তল্লাশী চালিয়ে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় এক কেজি আফিমের আঠা। যার বাজার মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। যা থেকে তৈরি করা হয় মাদক ব্রাউন সুগার। আর এর নেশায় আশক্ত হয়ে পড়ছে আট থেকে আশি।

প্রসঙ্গত, মালদহ জেলার ভৌগলিক মানচিত্রে কালিয়াচক বৈষ্ণবনগর, ইংরেজবাজার সহ একাধিক এলাকার গ্রামগুলিতে আফিম চাষ শুরু হয়। যার ফলে ২০১৬-১৭ সালে প্রচুর পরিমাণে আফিম চাষ করা হয়। যার পিছনে প্রত্যক্ষভাবে মদত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাসক দলের নেতা- নেত্রীদের বিরুদ্ধে। আর অল্প সময়ে প্রচুর অর্থ উপার্জনের জন্য বহু বেকার যুবকরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। এই বেআইনী আফিম চাষ বন্ধ করার জন্য বাধ্য হয়ে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এমনকি গ্রামগুলিতে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। এলাকায় বেআইনি আফিম চাষ করা হলেই তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে। এই নিয়ে মালদহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে জেলা প্রশাসন ও নারকটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরর আধিকারিকেরা। বেআইনি আফিম চাষ বন্ধ করতে গ্রামে গ্রামে পোস্টার দেওয়া শুরু হয়। এরপর ২০১৮-১৯ সালে বেআইনী আফিম চাষে লাগাম টানে জেলা প্রশাসন।এরপরে নতুন করে শীত মরশুমের শুরুতে মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর কালিয়াচকের একাধিক এলাকায় নতুন করে ফের আফিম চাষ শুরু হয়েছে। যা জেলা প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতের অন্ধকারে আফিমের আঠা পাচারের পথে ভিন রাজ্যের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এই বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান,আফিমের আঠা পাচারের পথে ভিন রাজ্যের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক কেজি বেআইনি আফিমের আঠা। তবে এই ধৃত ব্যক্তি কোথা থেকে এগুলো সংগ্রহ করেছিল বা কোথায় পাচার করছিল এদের মূল পান্ডা কে তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।