দেবময় ঘোষ, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের ঘর ভাঙার কাজ করছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷ জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দল থেকে গেরুয়া শিবিরে যোগদানের এই হিড়িক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যথেষ্ট চাপে রেখেছে৷ এক এক করে নিজের আস্থা্ভাজন সৈনিকরা কেন ‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী’বিজেপিতে আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছেন সে খবর নিতে নিতে নিজেই আজ ক্লান্ত মমতা৷

এক সময় মমতার নির্ভরযোগ্য সহকর্মীরা তাঁকে পরোক্ষে দোষারোপ করে দল ছেড়েছেন৷ নির্বাচনের আগে এই টুকরো টুকরো ঘটনার কোলাজ কী মমতাকে চাপে রাখবে? কতটা চাপে থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস? রাজ্যের শাসকদলে দিকে প্রশ্নগুলি আগামী দিনে ধেঁয়ে আসছে৷

‘‘বাড়ির লোকেদের সামনে অসহায় দিদি …’’

অর্জুন সিং ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন৷ তৃণমূল কংগ্রেস যখন ক্ষমতা থেকে বহুদূরে, সেই সময় থেকেই বিধায়ক অর্জুন৷ এক সময়ের লালদূর্গ বারাকপুরের একমাত্র তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন শিল্পাঞ্চলের ভূমিপুত্র৷ ২০০১ থেকে ২০১৬ – টানা ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন অর্জুন৷ বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, ‘‘আমি যদি অর্জুন হই, তবে মুকুল রায় শ্রীকৃষ্ণ৷ অর্জুনের রথের সারথী৷’’

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অর্জুনের এই উক্তি নিশ্চিত ভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে গিয়েছে৷ ঝাড়খন্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘পর্যবেক্ষকের’দায়িত্ব দিয়েও কেন অর্জুনকে দলে ধরে রাখা যায়নি, তা ভালোই বোঝেন মমতা৷ লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হওয়ার ‘অ্যাম্বিশন’এবং বিহার-ঝাড়খন্ডে ব্যক্তিগত ব্যবসার সাফল্য অর্জুনকে বিজেপির পথে চালিত করেছে – তা এখন তৃণমূলের কাছেও স্পষ্ট৷

Kolkata24x7 – কে অর্জুন যা বলেছেন, তা একটি হাজার কেজি বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে৷ অর্জুন বলেন, ‘‘বাড়ির অন্যলোক যখন পার্টি চালায় তখন এই অবস্থাই হয়৷ দিদি পার্টি চালাচ্ছেন না৷’’ বাড়ির (কালীঘাটের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট) ‘অন্য লোকের’ উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অর্জুন বক্তব্য, ‘‘পার্টিই পুলিশ কমিশনারকে বলছে অর্জুন সিংকে টাইট দিতে হবে! বাড়ির লোকেদেক সামনে দিদি অসহায় হয়ে গিয়েছে৷ পার্টির আর কোনও মূল্য নেই৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের লোকেরা ওর ২০০ শতাংশ বিরোধী …৷’’

‘‘বিভীষণ কুপকাৎ করবে রাবণকে!’’

রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক৷ তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে মমতার অনুগামীরা আগমণ দেখে রাজুর বক্তব্য, ‘‘রামায়ণের কথা মনে পড়ছে৷ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে বিভীষণ ছেড়েছিলেন লঙ্কারাজ রাবণের সংসার৷ ওরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসার ছেড়ে বিজেপিতে এসেছে৷ নিজের চোখেই ওরা দেখেছে, মমতা কীভাবে গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করেছে৷ সিন্ডিকেট এবং মাফিয়া রাজ চলেছে বাংলায়৷ তৃণমূল থেকে অসার পর বিজেপিই বাংলায় সেরা জায়গা’’কিন্তু, আস্থাভাজনদের দলপরিবর্তন মমতাকে রাজনৈতিক মঞ্চে কতটা আহত করবে? রাজুর জবাব, ‘‘বিভীষণ যতটা রাবণকে আহত করেছিল ততটাই৷ বিভীষণ কুপকাৎ করবে রাবণকে!’’

‘‘ডুবন্ত জাহাজ থেকে সকলেই ঝাঁপ দেয় …’’

দেবজিত সরকার রাজ্য বিজেপির যুবমোর্চার সভাপতি৷ দেবজিত বক্তব্য, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেসকে কেনও রাজনৈতিক দল বলে মনে করি না৷ আজ আমি বলছি, ভবিষ্যতে পলিটিকাল সায়েন্টিস্টরা বলবেন৷ পিসি-ভাইপোর সংসারে আর অন্য কোনও শেয়ার হোল্ডার নেই৷ অনেক ব্যক্তিত্ববানই এই বিষয়টি মেনে নিতে পারে না৷ তাঁদের স্বপ্ন ছিল সিপিএম হঠিয়ে বাংলা বাঁচাবেন৷ দেখা গেল সিপিএম হঠে গিয়েছে৷ কিন্তু বাংলা বাঁচেনি৷’’

দেবজিতের আরও বক্তব্য, ‘‘তৃণমূল ডুবন্ত জাহাজ৷ প্রাণ বাঁচাতে নেতারা ঝাঁপ দেবেন সেটাই স্বাভাবিক৷ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে বিশ্বাসের পূজারি প্রমাণ করতে চাইছেন তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে কোন বিশ্বাসের কাজ করেছেন৷ ওকে রাজীব গান্ধী দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী করেছিলেন৷ কিন্তু পরে যুব কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল বানিয়েছিলেন৷ অটলবিহারী বাজপেয়ী মমতার বাড়ি গিয়ে তার মাকে প্রমাণ করেছিলেন৷ এরপর এনডিএ থেকে বেড়িয়ে গিয়েছিলেন মমতা৷