নয়াদিল্লি: বেতন সমস্যা মেটাতে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করলেন জেট এয়ারওয়েজের পাইলটরা৷ মোদীকে চিঠি লিখে তাদের বেতন সমস্যা মেটানোর আশু সমাধান বের করার অনুরোধ করেন৷ প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী সুরেশ প্রভুকে চিঠি লেখেন জেটের পাইলটরা৷

জেটের সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহল প্রধানমন্ত্রীও৷ জেটকে বাঁচাতে অর্থমন্ত্রকের তরফে ব্যাংকগুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে৷ লোকসভা ভোটের আগে জেটের অবস্থা কিংফিশারের মতো না হয় তার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ এদিকে জেট এয়ারওয়েজ পাইলটের নথিভুক্ত ট্রেড ইউনিয়ন ন্যাশনাল অ্যাভিয়েটরস গিল্ড জেট বন্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে৷ জানায়, বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে জেট৷ এতে হাজার হাজার কর্মচারি কাজ হারাবেন৷ দেশের উড়ান পরিবহন ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব পড়বে৷ এয়ারলাইন্সের সংখ্যা কমে যাবে এবং অন্য উড়ান সংস্থায় যাত্রী চাপ বাড়বে৷ এতে টিকিটের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ ফলে যাত্রীরাও অসুবিধায় পড়বেন৷

জেট বন্ধ হোক চায় না ট্রেড ইউনিয়ন৷ তাই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে জেটের সমস্যা মেটানোর অনুরোধ করেছেন পাইলটরা৷ চিঠিতে তারা জানিয়েছেন, গত তিনমাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না পাইলট ও ইঞ্জিনিয়াররা৷ ফলে তাদের চরম আর্থিক দুরাবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে৷ অদুর ভবিষ্যতেও এই সমস্যা মেটার কোনও সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না৷ ম্যানেজমেন্টকে অনেক জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি৷ তারপরেও পাইলটরা পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতেও তারা ককপিটে বসছেন৷ কারণ উড়ান পরিষেবা বন্ধ থাকলে যাত্রীরা সমস্যায় পড়বে৷

নরেশ গোয়েলের জেট এয়ারওয়েজ গত ২৫ বছরের মধ্যে সবথেকে বেশি আর্থিক দুরাবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে৷ জেটের মাথায় বিপুল টাকা ঋণের বোঝা৷ সংস্থাকে ভাড়ায় দেওয়া বিমানগুলি তুলে নিচ্ছেন লিজ দেওয়া সংস্থাগুলি৷ ৭৮টি বিমানকে বসিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ এখন মাত্র ৪১টি বিমান দিয়ে পরিষেবা সচল রাখা হয়েছে৷ দু’দিন আগে জেটের পাইলটরা হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের বকেয়া বেতন না মেটানো হলে ১ এপ্রিল থেকে তারা আর ককপিটে বসবেন না৷