স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: নিজে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে। কিন্তু দল তাকে প্রার্থী করেনি। পরিবর্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীনেশ ত্রিবেদীর ভোট বৈতরণী পার করার গুরু দায়িত্ব চাপিয়েছেন তার কাঁধেই। কিছুটা বাধ্য হয়েই বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অপছন্দের তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীকে মেনে নিয়েছেন ভাট পাড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অর্জুন সিং।

বারাকপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পদ নিয়ে দলের অন্দরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল সেই জটিলতা কাটিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁকে নিয়ে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জোর জল্পনা হয়েছিল যে অপমানিত অর্জুন তৃণমূল কংগ্রেস দল ছাড়তে চলেছেন। তিনি নাকি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে পারেন। যদিও অর্জুন বাবু নিজে মুখে প্রকাশ্যে একবারও তার দল বদলের বিষয়ে কোনরকম মুখ খোলেননি।

পরিবর্তে অর্জুন বাবু বুধবার ভাটপাড়ায় সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘বাজারে আমি অনেক জল্পনা ও গুজব শুনতে পারছি। গুজবের কোন ভিত্তি নেই৷ এর কি উত্তর আমি দেব৷ দল যখন প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে তার পর আমার আর কিছু বলার থাকে না। দলের সিদ্ধান্ত অনুসারে দল যাকে প্রার্থী করেছে তার সমর্থনে কাজ করা আমাদের কর্তব্য। আমি দলের সৈনিক৷ দল যা সিদ্ধান্ত নেবে অন্যদের মত আমাকেও তা মানতে হবে।’’

এদিন তিনি আরও বলেন, ‘‘একটা পদের পাঁচ জন দাবিদার হতেই পারে৷ দাবিদার হওয়াটা অন্যায় কিছু না। কিন্তু দল যখন একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে তখন দলের কথা মানতে সকলেই বাধ্য। আমাকে দল ঝাড়খণ্ডের প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছে৷ সেখানে আট জন দলীয় প্রার্থী রয়েছেন। তাদের কর্মসূচি স্থির করতে আমি ঝাড়খণ্ডে যাচ্ছি।’’

অর্জুন বাবু নিজে মুখে দল বিরোধী কোন কথা প্রকাশ্যে না বললেও অনুগামীদের মধ্যে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে তিনি গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকে আছেন। তবে এই ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয় তা স্পষ্ট হয়ে যাবে দিন কয়েকর মধ্যেই।