স্টাফ রিপোর্টার, নাগরাকাটা: একেই বলে আন্তর্জাতিক শারদ উৎসব! এমন দৃষ্টান্ত সারা ভারতে আর নেই। ভারত-ভুটান সীমান্তের জিতি চাবাগানের পুজোয় এক হয় দুই দেশের মানুষ। শুধু এক হওয়া নয়, দেবীর পুজোর নানা জোগাড়-যন্ত্র করতেও দেখা যায় প্রতিবেশি দেশ ভুটানের নাগরিকদের। পুজো উপলক্ষে তাই জিতি চা বাগান হয়ে ওঠে দুই দেশের মিলনক্ষেত্র।

২০০৫ সালে স্থানীয় কয়েক জনের উদ্যোগে খুব ছোট করে এই পুজোর পথ চলা শুরু। এবার জিতি চাবাগানের পুজো ১৫ বছরে পা রাখল। খুব বড় আকারে পুজো হয় না। দুই দেশের মিলনমেলাই এই পুজোর একমাত্র বৈশিষ্ট্য। পুজো উপলক্ষে প্রতিদিন ভুটান থেকে বহু মানুষ ভিড় করেন এখানে। ভুটানের নানা জেলা বিরু, গাঠিয়া, টেন্ডু থেকে এখানে পুজো দেখতে আসেন অনেকে। ভুটানের উচ্চপদস্থ আধিকারিকাও জিতি চা বাগানের পুজো দেখতে আসেন। তাঁদের যাতে কোনও রকম অসুবিধে না হয়, সেই বিষয়ে দেখভাল করেন স্থানীয়রা।

পুজো কমিটির এক সদস্য বলেন, “ভুটানের নাগরিকরা আমাদের চাঁদা দিয়ে সাহায্য করেন। যদিও পুজোর বাজেট খুবই কম। কিন্তু যে আনন্দ আর সৌহার্দ্য আমরা পাই তা, আর কোনও কিছুর সঙ্গে তুলনা হয় না।” অষ্টমী পুজোর পর ভুটানের জাতীয় পোশাক পরে নাচ পরিবেশন করেন সেই দেশ থেকে আসা মেয়েরা। সেজন্যই উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে এই পুজোর গুরুত্ব অপরিসীম। আগামী দিনে দেশবাসীর কাছে জিতি চা বাগানের দুর্গাপুজো সৌহার্দ্যের প্রতীত হয়ে উঠেবে বলেই মনে করে ওয়াকিবহাল মহল।