কৃষ্ণনগর: নজিরবিহীন৷ তৃণমূল জমানাতেই খুন হলেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস৷ সরস্বতী পুজোর দিন সন্ধ্যায় নিজের এলাকারই এক অনুষ্ঠানে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে আততায়ীরা৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্য হয় শাসক দলের ওই বিধায়কের৷ এই খুনের পেছনে রয়েছে বিজেপির হাত৷ সরাসরি অভিযোগের তির মুকুল রায়ের দিকে৷ বিরোধীদের অভিযোগ শাসক দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের শিকার বছর চল্লিশের ওই বিধায়ক৷ এলাকায় কান পাতলেও সেই দাবি-ই ক্রমশ জোড়ল হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: তৃণমূল বিধায়ক খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ২

যদিও অন্তর্দ্বন্দ্বের অভিযোগ ঘটনার পর থেকেই উড়িয়ে দিচ্ছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব৷ সেই সুরেই সুর মিলিয়েছে দলের উপর তলার নেতারাও৷ তবে বাস্তব বলছে অন্যকথা৷ শাসক দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বর্তমানে খুব একটা ভালো সম্পর্ক ছিল না সত্যজিতের৷ সেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জন্যই কী এই চরম পরিণতি হল বিধায়ক সত্যজিতের? কৃষ্ণগঞ্জ থেকে কৃষ্ণনগর, আনাচেকানাচে এখন জোর গুঞ্জণ৷

আততায়ী কে? বিজেপি, নাকি দলেরই কেউ? এই প্রশ্নে অবশ্য কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রীয়ের নিশানায় বিজেপি নেতা অভিজিৎ পুন্দারি৷ তবে দলের অভ্যন্তর থেকেই উঠে আসছে অন্য তথ্য৷ ভোটের আগে সত্রিয় হয়ে ওঠে পদের লোভ৷ এক্ষেত্রে অনেকের ছিল জেলা তৃণমূল যুব সভাপতির পদটি৷ আর এই পদেই ছিলেন সত্যজিৎ বিশ্বাস৷

আরও পড়ুন: চন্দ্রবাবুর গোয়েন্দা দিয়ে সত্যজিত খুনের তদন্ত করার দাবি মুকুলের

নদিয়ার তৃণমূল জেলা সভাপতি গোরীশঙ্কর দত্ত৷ তাঁর পুত্র অয়ন দত্ত ছিলেন জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি৷ এছাড়াও শান্তিপুরে সিন্ডিকেট ব্যবসার সঙ্গেও সে জড়িত বলে খবর৷ সম্প্রতি অয়নের জায়গায় সিন্ডিকেটের মাথা করা হয় শঙ্কর সিংয়ের ছেলে দীপঙ্করকে৷ পদের কারণে দত্ত ও মিত্রদের দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সুবিদিত৷ এই পরিস্থিতিতিতে উভয়েরই পাখির চোখ সংগঠনের পরবর্তী ধাপ যুব সভাপতির পদটি৷ প্রশ্ন উঠছে, সেই কারণেই কী সত্যজিৎ খুনের নেপথ্যে গভীর হচ্ছে শাসক দল তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়টি৷

বিধায়কের দেহ রক্ষী ছুটিতে৷ জনপ্রিয় বিধায়ক স্থানীয় অনুগামীদের নিয়ে হাজির ছিলেন সরস্বতী পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে৷ এই অনুষ্ঠান মঞ্চ সত্যজিৎবাবুর বাড়ির ঠিক পাশেই৷ বলাই যায় থাস তালুরকেই সেই সময় ছিলেন তিনি৷ মঞ্চ থেকে নামার সময় তাঁকে গুলি করা হয়৷ তিনজন দুষ্কৃতি সত্যজিৎ বিশ্বাসকে ঘিরে ধরেথিল বলে জানা যায়৷ প্রশ্ন, আততায়ীরা কীভাবে বিধায়কের কাছে পৌছে গেল৷ তারা যদি অচেনা হত, তাহলে তো অন্যদের দেখে সন্দেহ হত৷ এখানেই প্রশ্ন উঠছে তবে কী এমন কেউ এই কাজের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন করার সুবাদে যাদের চিনতেন বিধায়ক৷

আরও পড়ুন: মার্চে সারা রাজ্যে বিজেপির বাইক মিছিল

ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে সিআইডি৷ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে একজনকে৷ এসেছে ফরেন্সিক টিম৷ গেরুয়া শিবিরের লোক, নাকি ঘরের চেনা লোক? আততায়ীকে খুঁজে বার করার চেষ্টায় রাজ্যের তদন্তকারী দলের সদস্যরা৷