নয়াদিল্লি: দ্বিতীয় মোদী সরকারের প্রথম সংসদীয় অধিবেশন৷ ১৭তম লোকসভার অধিবেশন শুরু হল সোমবার৷ বেলা ১১.০৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শপথ নেন৷ তার আগে প্রোটেম স্পীকার হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ নেন বিজেপি সাংসদ বীরেন্দ্র কুমার৷ অধিবেশনের প্রথম দুদিন ৫৪২জন সাংসদের শপথগ্রহণ চলবে৷ তারপরে বসবে লোকসভার অধিবেশন৷ অদিবেশন চলবে ২৬শে জুলাই পর্যন্ত৷

এদিন শপথ গ্রহণের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তিনি বলেন শক্তিশালী গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি শক্তিশালী বিরোধী৷ পক্ষ বিপক্ষ ভুলে সাংসদদের এখন উচিত নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করা৷ দেশের স্বার্থে নিজেদের স্বার্থ ভুলে যাওয়া উচিত নির্বাচিত সাংসদদের৷ প্রধানমন্ত্রীর আশা, সুষ্ঠু ভাবে অধিবেশনের কাজ চলতে দেবে বিরোধী দলগুলি৷ বিরোধী দল নিজেদের সংখ্যালঘিষ্ঠতা মাথায় না রেখে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি৷

এর পাশাপাশি অধিবেশনের কাজে প্রত্যেকে যেন সমান ভাবে অংশগ্রহণ করে, এই দাবি করেন তিনি৷ তিনি নতুন লোকসভায় মহিলা সাংসদদের সংখ্যা নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন৷

আরও পড়ুন : ভারতে ক্রমশ বর্ধিত এসির সংখ্যাই বদলাচ্ছে আবহাওয়াকে

মোদীর মত, বেশ কয়েক দশক পরে দ্বিতীয় বারের জন্য কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে লোকসভায় প্রবেশ করেছে৷ যা দেশ গঠনে একান্ত ভাবে সাহায্য করবে বলেই তিনি মনে করেন৷ প্রত্যেক দলের সাংসদরা যেন মানুষের কথা ভেবে কাজ করেন, এই আশা করেন তিনি৷

এদিন লোকসভা অধিবেশনের প্রথম দিনেই একে একে শপথ নেন সাংসদরা৷ প্রথমে নরেন্দ্র মোদী, তারপর সদ্য নির্বাচিত সাংসদরা শপথ গ্রহণ করেন৷ এরই মধ্যে বিজেপি সাংসদ হর্ষ বর্ধন ও জিতেন্দ্র সিং সংস্কৃত ও ডোগরি ভাষায় শপথ গ্রহণ করেন৷

আরও পড়ুন : হিন্দিভাষীদের বহিরাগত বলে গণ্ডগোল বাধাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী, বিস্ফোরক অর্জুন

এদিকে, রবিবার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি বিরোধী দলের কাছে সহযোগিতার আরজি জানান, যাতে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করাতে গিয়ে সমস্যায় না পড়তে হয় সরকারকে৷ কারণ রাজ্যসভায় এখনও সংখ্যালঘু এনডিএ৷ লোকসভায় ৫৪৩টি আসেনর মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর ঝুলিতে রয়েছে ৩৫৩টি আসন৷ কিন্তু রাজ্যসভায় ছবিটা আলাদা৷ ২৪৫টি আসনের মধ্যে ১০২টি আসন বিজেপির ঝুলিতে৷

এবারের অধিবেশনে পেশ হওয়ার কথা গুরুত্বপূর্ণ তিন তালাক বিল, গত বছর অধিবেশন থেকে এই বিল আটকে রয়েছে৷ তিন তালাক বিল পাশ করাতে এবার শরিক দলের বাধার মুখে পড়তে হবে মোদী সরকারকে৷ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই বিল পাশ করতে মোদী সরকারকে সমর্থন করবেন না বলে আগেই ঘোষণা করেছেন৷