তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই যে সব ইস্যুতে উত্তাল রাজ্য তার মধ্যে অন্যতম এই কাটমানি ইস্যুটি৷ অনেকের মতেই এই ইস্যুতে কার্যত ব্যাকফুটেই যেতে হয়েছে রাজ্য সরকারকে৷ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নেতার নাম জড়িয়েছে এই কাটমানিতে৷ আর এবার সাপ্তাহিক ‘গণ অভিযোগ দিবসে’ কাটমানি ইস্যুতে বাঁকুড়ায় জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলে মানুষ।

জানা গিয়েছে, সোমবার বাঁকুড়া পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেঠারডাঙ্গা এলাকার তৃণমূল নেতা ও কাউন্সিলর শেখ আজিজুলের বিরুদ্ধে জেলাশাসকের কাছে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এদিন প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে ‘কাটমানির টাকা ফেরতে’র দাবি জানিয়ে ওই এলাকার মানুষ জেলাশাসকের কাছে হাজির হন। তাদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। অনেক সময় যোগ্য ব্যক্তিকে বঞ্চিত করে ওই কাউন্সিলর যেমন বাড়ি তৈরির টাকা তুলে দিয়েছেন, তেমনই অনেকের কাছ থেকে সরকারি বরাদ্দ টাকা থেকে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত কাউন্সিলর শেখ আজিজুলের লোকেরা জোর করে কাটমানি আদায় করেছেন বলে তাদের দাবি।

উল্লেখ্য, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ‘নির্দল’ হিসেবে নির্বাচিত কাউন্সিলর শেখ আজিজুল পরে শাসক শিবিরে যোগ দেন। তার পর থেকেই তিনি এলাকায় সরকারি প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ টাকা কাটমানি আদায় করেন বলে অভিযোগ। সম্প্রতি এই ইস্যুতে ওই এলাকার মানুষ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পোস্টার দেন। সেই সময় অভিযুক্ত কাউন্সিলর শেখ আজিজুল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছিলেন।

পড়ুন: রাতভর বোমাবাজির পর রবিবার আতঙ্কে স্তব্ধ ভাটপাড়া

এদিন জেলাশাসকের দফতরে আসার পথে ফোনে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ। সুমিত্রা দাস নামে এক উপভোক্তা বলেন, সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পেয়েছিলাম, তার মধ্যে চল্লিশ হাজার টাকা ওই কাউন্সিলরের লোককে দিতে হয়েছে। আজ আসার পথেও তারা হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানান এবং সেই সঙ্গে বলেন, তারা খুব ভয়ে ভয়ে রয়েছেন। রীতা সিং নামে আর এক উপভোক্তা বলেন, ‘এক প্রকার ভয় দেখিয়ে তিরিশ হাজার টাকা তার থেকে নেওয়া হয়েছে, ওই টাকা এখন ফেরত চাইছি৷’

এবিষয়ে জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস বলেন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়াও জেলা পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়েছে। পুলিশ অভিযোগের তদন্ত করে দেখবে।