টোকিও: গত বুধবার টোকিও (Tokyo) শহরে নতুন করে করোনা সংক্রামিত হয়েছেন ৬২১ জন। ৩ কোটি ৭০ লক্ষ জনসংখ্যার শহরে সংখ্যাটা বিশাল কিছু না হলেও অলিম্পিক শুরু হতে যেহেতু হাতে তিন মাসেরও কম সময়, তাই চিন্তার উদ্রেগ হওয়াটা স্বাভাবিক। নইলে কোনও অবাঞ্ছিত ঘটনায় যে মুখ পুড়বে গোটা দেশের। তাই কোনওরকম ঝুঁকি নয়, টোকিওয় বাড়ানো হল জরুরি অবস্থার (State Of Emergency) মেয়াদ। ১১মে থেকে বাড়িয়ে টোকিও, পার্শ্ববর্তী ওসাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রদেশে আগামী ৩১ মে অবধি বর্ধিত করা হল জরুরি অবস্থার মেয়াদ।

আর এতেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অলিম্পিক গেমসের (Olympics) আকাশে ফের একবার দুর্যোগের ঘনঘটা। অলিম্পিক আবহে পারিপার্শ্বিক সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করে টোকিও গভর্নর যুরিকো কৈকে (Yuriko Koike) জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষেই রায় দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই। আমরা মনে করেছি বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বর্ধিত করার প্রয়োজন রয়েছে।’

জাপানের জাতীয় হকি দলের কোচ সংক্রমণের সংখ্যাকে গুরুত্ব না দিলেও ভাইরাস যেভাবে তার চরিত্র বদল করে চলেছে তাতে জরুরি অবস্থার পক্ষেই সায় দিয়েছেন। সিগফ্রিড আইকম্যান (Siegfried Aikman) টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, ‘টোকিওর যা জনসংখ্যা তার তুলনায় সংক্রমণ খুব বেশি নয়। তবে এখনও সতর্ক থাকার অবকাশ রয়েছে এবং প্রশাসন সেদিকেই নজর দিচ্ছে। আমার মনে হয় এভাবে চললে সংক্রমণ আগামী একমাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। যতবারই প্রশাসন লকডাউনের (Lockdown) পথে হেঁটেছে, ততবারই সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।’

আপাতত অলিম্পিক প্রস্তুতি সারতে দল নিয়ে তিনি মালয়েশিয়ায় ফ্রেন্ডলি ট্যুরে এসেছেন। এদিকে মশাল দৌড়ে (Torch Relay) অংশ নিয়েছেন যারা, তাদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮। যার মধ্যে চলতি মাসেই ৬ জনের ভাইরাসে আক্রান্তের খবর মিলেছে। এমতাবস্থায় গেমসের জন্য ৫০০ নার্সকে ডেকে পাঠিয়ে সমালোচনার মুখে আয়োজকরা। শহরে চলতে থাকা জরুরি অবস্থার মধ্যে গেমস আয়োজকদের স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদাকে একাংশ ‘অসংবেদনশীল’ মনে করছে।

মধ্য জাপানের নাগোয়ার (Nagoya) এক স্বাস্থ্যকর্মী মিকিতো ইকেদা (Mikito Ikeda) বলেছেন, ‘এমন অসংবেদনশীল আচরণে আমরা অবাক। এর মানে সাধারণ মানুষের জীবনকে হালকাভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে। এটা এমন একটা সময় যখন হাসপাতালগুলো একটা স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব ব্যাপক টের পাচ্ছে। সেখানে ওরা ৫০০ জনকে চাইছে। এটা কখনও সম্ভব?’ সবমিলিয়ে শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা একইসঙ্গে আয়োজকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া গেমস ঘিরে অনিশ্চতার মেঘ যেন তীব্র করছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.