স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘক্ষণ পড়ে রইলেন করোনা আক্রান্ত এক বৃদ্ধা। শ্বাসকষ্টে কাতরাতে দেখেও এগিয়ে এল না কেউ। এই অমানবিক ঘটনা ঘটল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে।

জানা গিয়েছে, বিরাটির বাসিন্দা, ৭০ বছরের নীলাবালা পাল গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। করোনা পরীক্ষা হয় তাঁর। মঙ্গলবার তাঁর রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। এরপরই তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছেও দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যেই পড়ে ছিলেন ওই বৃদ্ধা। নামানোর কেউ ছিল না। কোনও মতে অ্যাম্বুল্যান্স থেকে হামাগুড়ি দিয়ে নিজেই নামেন মাটিতে। তার পরে সেখানেই বসে থাকেন অনেকক্ষণ। ওই বৃদ্ধা একাই ছিলেন। এমনকি হাসপাতালের কোনও কর্মীও ছিল না তাঁকে ভিতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। শেষমেশ নিজেই একটি লাঠিতে ভর দিয়ে ভিতরে যান।

মঙ্গলবারের এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে আরজিকর হাসপাতালের বিরুদ্ধেও। অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের রোগীকে অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়েই দায় সেরেছে তারা। একজন বৃদ্ধা রোগীকে কিভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একা এইভাবে ছেড়ে দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

একের পর এক অভিযোগে বিদ্ধ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। যেমন মঙ্গলবারই আরও একটি অমানবিক ঘটনা ঘটেছে এই হাসপাতালে।

জানা গিয়েছে, ছ’দিন আগেই হাসপাতালে মারা গিয়েছেন প্রৌঢ়। কিন্তু বাড়ির লোককে কোনও খবরই দেয়নি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, টানা পাঁচদিন ধরে হাসপাতালের তরফ থেকে বলা হয়েছে, রোগী স্থিতিশীল আছেন। এমনই অভিযোগ উঠল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালর বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ