কলকাতাঃ বাংলা সহ চার রাজ্যে ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মিটেছে বিধানসভা ভোটপর্ব। কিন্তু বাংলা বাদে বাকি রাজ্য গুলি থেকে ভোট পরবর্তী হিংসার তেমন কোনও খবর পাওয়া যায়নি, শুধুমাত্র বাংলাতেই চলছে সন্ত্রাস। ইতিমধ্যেই এরাজ্যে প্রাণ গিয়েছে ১৪ জনের। যা নিয়ে প্রধান বিরোধী দল গেরুয়া শিবিরের অভিযোগের আঙুল শাসকদল তৃণমুলের (TMC) দিকে। অন্যদিকে তৃণমূল আবার কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে বিজেপিকে।

গেরুয়া শিবিরের তরফে ভোটগণনার ২৪ ঘণ্টা বাদেই দাবি করা হয়েছিল বহু বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন এবং অনেকেই গুরুতর আহতও হয়েছেন। এমনকি তাঁদের দোকান-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ করে বিজেপি। গেরুয়া শিবির এই ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে মন্তব্য করে, ‘বাংলায় তৃণমূলের যে হিংসার ছবি উঠে আসছে, তা অত্যন্ত ভয়ানক, দুঃখজনক, সাথে চিন্তাজনকও’। বাংলা, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতা দখল করেছে অসম এবং পুদুচেরিতে। আর সেই সকল রাজ্যে কোনও ভোট পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence)ঘটনা ঘটেনি। সেটিকে হাতিয়ার করে আরও সরব হয় গেরুয়া শিবির।

কিন্তু এবার গেরুয়া শিবিরের (BJP) বিরুদ্ধেই ফাঁস হচ্ছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভোট পরবর্তী হিংসার চিত্র বলে একাধিক ফেক ভিডিও এবং ছবি পোস্ট করছে বিজেপি। যা ইতিমধ্যেই সমানে এসেছে। ভুয়ো ছবি প্রকাশ করার দায়ে বারবার অভিযুক্ত হচ্ছে বিজেপি। কয়েকদিন আগেই ভোট পরবর্তী হিংসায় শীতলকুচিতে মৃত দলীয় কর্মীর ছবি বলে বিজেপি যা প্রকাশ করেছিল, তা আদতে এক ‘জীবিত’ সাংবাদিকের ছবি। যা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্ব ক্ষমা চাইলেও অভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ওই সাংবাদিক আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এছাড়াও ভুয়ো ছবি (Fake Image) শেয়ার করায় বিজেপির আইটি সেলের দুই কর্মী গ্রেফতার হয়েছে বাংলায়।

এবার আরও একটি চাঞ্চল্যকর সত্য উদঘাটন হয়েছে। বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করছে একদল দুষ্কৃতী। এমনই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা দাবি করছেন, এটি নদীয়া জেলার গাঙ্গনাপুরে সন্দেহভাজন তৃণমূল কর্মীদের হাতে পিটিয়ে খুন হলেন বিজেপি কর্মী উত্তম ঘোষ। ভিডিওটির ক্যাপশন দেওয়া হয় আরও চমকপ্রদ। সেখানে মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ বলে দাবি করে লেখা হয়, ‘টিএমসি কর্মীরা আমার স্বামীকে বাড়ির বাইরে টেনে নিয়ে গিয়ে তাকে বলে, “এখন জয় শ্রী রাম বল। তোর বিজেপি সমর্থকরা কোথায়? এখন কে বাঁচাবে? ” এই বলে তারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছিল।

ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সেখান থেকেই জানা যায়, ভিডিওটি একেবারেই ভুয়ো। সেটি আসলে ২০১৭ সালের ব্রাজিলের (Brazil) একটি ভিডিও। সেখানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর হাতে পিটিয়ে খুন হন এক ব্যক্তি। সেই ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হয় এটি বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসা। অর্থাৎ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সাথে কোনও যোগসাজশ নেই বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসার।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.