স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর : উৎসব সবার জন্য। বাঙালির বারো মাসের তেরো পার্বণে সামিল হওয়ার স্বাদ সবার মধ্যেই থাকে। কিন্তু যাদের উপায় থাকেনা তাঁরা কি বঞ্চিত থাকবে আলোর উৎসবের আনন্দ উপভোগ থেকে। নিজেকেই সাজাতে যখন ব্যস্ত আজকের যুগের সবাই তখন প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে আলোর উৎসবে মিল হলেন বেশ কিছু বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা।

সূত্রের খবর, মছলন্দপুর এলাকার ১০০ জন বয়স্ক বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের টোটো করে নিয়ে গিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে কালী ঠাকুর দেখার ব্যবস্থা করে প্রশাসন। প্রশাসনের এহেন উদ্যোগে ভীষন খুশী হয়েছেন ঠাকুর দেখতে বেরোনো প্রবীণ দর্শনার্থীরা।

জানা গিয়েছে, আলোর উৎসবের সামিল হওয়া ওইসব বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের কারও বয়স ৬০, কারও ৮০ বা তারও বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই হেঁটে হেঁটে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারপর প্রতিমা দেখাও খুবই কষ্টসাধ্য। পরিবারের কম বয়সী সদস্যরা প্রতি বছর পুজোর অনুষ্ঠানে মেতে থাকেন তখন এদের দায়িত্ব থাকে বাড়ি পাহারার। তাই দীপাবলীর রঙিন আলোর রোশনাই থেকে তারা থাকে অনেকটাই দূরে।

এমন কিছু বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পুজোর আনন্দ দিতে এগিয়ে এল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। সূত্রের খবর, গোবরডাঙ্গা থানা এবং মছলন্দপুর ফাঁড়ির পুলিশ ও মছলন্দপুর একনম্বর পঞ্চায়েতের উদ্যোগে এলাকায় ১০০ বৃদ্ধ- বৃদ্ধাকে ঠাকুর দেখার ব্যবস্থা করা হয়। শুধু তাই নয় তাদের দেওয়া হল সম্বর্ধনা।

শুধু তাই নয় বিজয়া উপলক্ষ্যে মিষ্টিমুখও করান তাঁদের। উদ্যোক্তাদের তরফে শাঁখ বাজিয়ে, উলু দিয়ে আবার কোথাও কোথাও ফুল ছিটিয়ে বরণ করা হলো প্রবীণ নাগরিকদের। উদ্যোক্তাদের তরফেও প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় মিষ্টির প্যাকেট। কেউ বয়সের ভারে চলার ক্ষমতা হারিয়ে শেষ কবে প্রতিমা প্যান্ডেল দেখতে বেরিয়েছে তা মনে করতে পারছেন না তবে মুখের ভাষায় বোঝালেন বেশ কয়েক বছর তো হবেই । তাই পুজোর আনন্দ পেয়ে তারা খুশি, প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাতেও ভোলেননি তাঁরা। আলোর উৎসব দীপাবলি আর সেই আলোতে গা ভাসিয়ে অনেকটাই আপ্লুত দেখাল এদিন ঠাকুর দেখতে আসা বৃদ্ধ -বৃদ্ধাদের।