প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই পকসো আইনে এক নাবালিকার যৌন নির্যাতন মামলার নিষ্পত্তি করে শাস্তি ঘোষণা করল উত্তর ২৪ পরগণার বারাকপুর মহকুমা আদালত। অভিযুক্ত বৃদ্ধার নাম অমল পান (৬২)৷

উত্তর ২৪ পরগণার বীজপুর থানার চাঁদুয়া দোলতলা এলাকার এক নাবালিকাকে তার বাড়িতে ঢুকে যৌন নির্যাতন করেছিল অপরাধী অমল পান৷ সেই অপরাধেই তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয় আদালত৷ পাশাপাশি জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বারাকপুর মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অমিত চক্রবর্তীর এজলাস।

 

প্রতীকী ছবি

বারাকপুর আদালতের সরকারি আইনজীবী অসীম দত্ত জানান, অপরাধী অমল পান পেশায় একজন কৃষক। গত ২০ জুলাই ২০১৭ তে ওই বৃদ্ধ চাঁদুয়া দোলতলা এলাকায় নিজের জমিতে চাষ করতে করতেই হঠাৎ জল চাইতে যান তার জমি সংলগ্ন এক প্রতিবেশীর বাড়িতে। ওই বাড়িতে সেই সময় এক ১০ বছরের নাবালিকা ছাড়া আর কেউ ছিল না। অভিযোগ, জল খাওয়ার অছিলায় ওই নাবালিকার থেকে জল খেয়ে তার বাড়িতে ঢুকে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা করে। ওই নাবালিকার বাবা পেশায় শ্রমিক৷ মা পরিচারিকার কাজ করায় তারা বাড়ির বাইরে ছিলেন। ওই নির্যাতিতা স্থানীয় প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল৷ বর্তমানে সে হালিশহরের একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।

ওই নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার পর তার বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় বৃদ্ধ অমল পান। নির্যাতিতা নাবালিকার মা কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি ফিরে দেখে তার মেয়ে কান্নাকাটি করছে। বিষয়টি মেয়ের কাছ থেকে শুনে মেয়েটির মা ওই দিনই সোজা বীজপুর থানায় গিয়ে প্রতিবেশী বৃদ্ধ অমল পানের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে বীজপুর থানার পুলিশ। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধরা পড়ে অপরাধী বৃদ্ধ অমল পান। বীজপুর থানার তদন্তকারী মহিলা পুলিশ অফিসার পিয়ালি চক্রবর্তী ঘটনার মাস দুয়েকের মধ্যেই চার্জশিট জমা দেয় বারাকপুর আদালতে। শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। মাত্র ১ বছর ৫ মাসের মধ্যেই এই মামলার নিষ্পত্তি করল আদালত।

মঙ্গলবার দোষী সাব্যস্ত হয় অপরাধী অমল। বুধবার তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয় আদালত৷ ওই জরিমানার টাকা না দিলে অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ শোনানো হয়।

এদিন আদালত চত্বরে সংবাদ মাধ্যমকে পুলিশি ঘেরাটোপে থাকা অবস্থায় অপরাধী অমল জানায়, সে নির্দোষ। তাকে জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী ওই পরিবার ফাঁসিয়ে দিয়েছে। যদিও এই কেসের তদন্তকারী পুলিশ অফিসার পিয়ালি চক্রবর্তী বলেন, আদালতে অপরাধীর দোষ প্রমাণিত হয়েছে।