স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন এক বৃদ্ধা৷ তবে শেষপর্যন্ত মাঝিদের তৎপরতায় তিনি প্রাণে বেঁচেছেন৷ পুলিশ জানিয়েছে, ওই বৃদ্ধার নাম দীপালি চট্টোপাধ্যায়(৭০)৷ তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে৷ মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনাটি ঘটে৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরাটির বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণেশ্বর আসেন৷ সেখান থেকে পৌঁছন গঙ্গার ঘাটে৷ লঞ্চে ওঠেন বেলুড় মঠে যাবেন বলে৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লঞ্চ যখন দক্ষিনেশ্বর থেকে বেলুড়ের মাঝে, তখনই দিপালীদেবী গঙ্গায় ঝাঁপ দেন৷

এই ঘটনার জেরে যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন৷ আশপাশে যে কয়েকটি নৌকা ছিল, সেগুলির মাঝিরা ওই চিৎকার শুনে দেখেন গঙ্গায় কেউ একজন ডুবে যাচ্ছেন৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েকজন মাঝি সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গায় ঝাঁপ দেন৷ তাঁদের প্রচেষ্টাতেই ওই বৃদ্ধাকে বাঁচানো সম্ভব হয়৷ উদ্ধারের পর তাঁর প্রাথিমক চিকিৎসা করা হয়৷ তার পর নিয়ে যাওয়া হয় বালি থানায়৷ পুলিশের তরফে তাঁকে একটি নতুন শাড়ি দেওয়া হয়৷ বাড়ি পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়৷ তবে কেন তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, তা জানা যায়নি৷

কয়েকদিন আগেই গঙ্গায় এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল৷ সেবার লঞ্চ থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এক দম্পতি৷ সেই ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু হলেও বেঁচে গিয়েছিলেন বৃদ্ধ৷ বাগবাজার থেকে হাওড়ামুখী একটি লঞ্চে ছিলেন ওই দম্পতি৷ বারবার মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন পুলিশ৷

অন্যদিকে হাওড়ার কোনা এক্সপ্রেসওয়ের ধারে মৌখালি পেট্রোল পাম্পের সামনে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের মধ্য থেকে ওই গাড়ির চালকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাসবেস্টাস বোঝাই ট্রাকটি সোমবার রাত থেকেই দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে। মঙ্গলবার বেলা ১২টা পেরিয়ে গেলেও গাড়িটি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকায় সন্দেহ হয় ট্রাফিক পুলিশের। সিভিক ভলান্টিয়াররা এসে দেখেন গাড়ির কেবিনের মধ্যে চালকের দেহ পড়ে রয়েছে। এখনও তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।