স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: মাথার ওপর ছাদ ছিল না৷ নিশ্চিন্ত একটা আশ্রয় ছিল না৷ বারবার প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আবেদন করেও লাভ হয়নি৷ সোমবার দেওয়াল চাপা পড়ে একপ্রকার মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এলেও ভেঙ্গেছে পা, চিরতরে হয়তো হারাতে বসেছেন একটি চোখ। বর্তমানে অসহায় ঐ বৃদ্ধা বাঁকুড়ার কোতুলপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভরতি৷

স্থানীয়দের অভিযোগ সরকারি প্রকল্পে একটা মাথা গোঁজার নিশ্চিত আশ্রয়ের খোঁজে দিনের পর দিন ঘুরেছেন মির্জাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পলাশবন গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা আঙ্গুর রায়। কিন্তু কাজ হয়নি কিছুই। ভাঙ্গা টিনের ছাউনি আর ফুটিফাটা ঘরে বাস করার মাঝেই তার জীবনে ঘটলো অঘটন।

 

বৃদ্ধা আঙ্গুর রায়ের বৌমা ফুলেশ্বরী রায় ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, আমাদের তেমন আর্থিক সামর্থ্য নেই। ভাঙাচোরা ঘরে শাশুড়ি মা একাই থাকতেন। সরকারি প্রকল্পে যাতে ওনার একটি বাড়ি তৈরী হয় সেব্যাপারে শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে পঞ্চায়েত,বিডিও অফিস পর্যন্ত জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। ওই দিন রাতে ভাঙা বাড়িতে শুয়ে থাকার সময় দেওয়াল চাপা পড়ে যান তিনি। এই পরিস্থিতিতে শাশুড়ির সুচিকিৎসা ও একটি বাড়ি তৈরীর আবেদন রেখেছেন তিনি।

প্রতিবেশী বুলা রায় বলেন ভোটের সময় যত প্রতিশ্রুতি। ভোট ফুরোলে এগ্রামের চৌহদ্দি কেউ মাড়ায় না। একাধিকবার বাড়ি তৈরীর তদন্ত হয়েছে। কাজ হয়নি। ভাঙা বাড়ির দেওয়াল চাপা পড়ে গুরুতর আহত ঐ বৃদ্ধাকে কে এখন দেখাশোনা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এই গ্রামের ৩৫ টি পরিবারই দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী। এখনো পর্যন্ত একটি পরিবারও সরকারী প্রকল্পে কোন বাড়ি পায়নি বলে গ্রামবাসীদের তরফে দাবী করা হয়েছে।

 

বৃদ্ধার প্রতিবেশী ও সিপিএম নেতা অশোক মুখার্জ্জী বলেন, বিষয়টি বার বার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কোন কাজ হয়নি। প্রতিনিয়ত বৃষ্টির মাঝেই দেওয়াল পড়ে ঐ বৃদ্ধা আহত হয়ে এখন হাসপাতালে ভরতি৷ স্থানীয় মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারায় উদ্ধার করে সময় মতো হাসপাতালে ভরতি করায় এযাত্রায় উনি প্রাণে বেঁচেছেন। এই মুহূর্তে বৃদ্ধার সুচিকিৎসা ও একটি বাড়ি তৈরীর আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এবিষয়ে মির্জাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিকাশ মাঝি বলেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই। বিষয়টি পরিবারের লোক জানালে পঞ্চায়েতের তরফে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরীর প্রকল্পে যদি ওনার নাম থাকে বাড়ি উনি পাবেন, না হলে গীতাঞ্জলী প্রকল্পে যদি বাড়ি দেওয়া যায় বিষয়টি দেখা হবে বলে তিনি জানান।